Sunday, 1 September 2013

নভস্য শেষের কবিতা ৬



দাগ
-রাজদীপ রায়

যাদুবারান্দার বাইরে গিয়ে হাত বাড়িয়েছে
আমার গাওয়া অসমাপ্ত গান
শিরা কাটা
রক্ত ঝরে পড়ছে নিচে

একটা কুকুর স্বর্গে যাবে বলে
জিভ বের করে দাঁড়িয়ে

ধূলোদেবতার কাছে অনুগ্রহ চেয়ে
এইটুকু পথ আমি পেরোতে দিয়েছি ওকে

যাই বলতে নেই
বলো, আসি 

Saturday, 31 August 2013

নভস্য শেষের কবিতা ৫



মেঘ
-ইন্দ্রনীল ঘোষ


মেঘে মেঘে এত খোলামেলা নার্স
       আজ সারাদিন, হাসপাতালের গন্ধ আকাশে...

মেঘের ওদিকে আমার বাড়ি
আমি কিছুতেই বাড়ি ফিরতে পারছি না।
মেঘের ওদিকে সব নাম
একটা নামও মনে করতে পারছি না।

শুধু নার্স
       তাদের সাদা পোষাক উড়িয়ে দেওয়া
                     সমস্ত গাছে, পাখিদের স্তব হবে বলে

ফাঁকা স্তবে, আমি বসে আছি
হাসপাতাল থেকে মেঘ আসছে নিয়মিত


নভস্য শেষের কবিতা ৪



নৃ ছবি
-রাজেশ শর্মা


তারপর সে আসলে জলীয় আহামরি 
সাজাচ্ছে সান্ধ্য উড়ালপুল   

ডুবে যাই সেইখানে
ভেসে ফেলা একটা হুজুগ 

একা বেফিকর সময় সরাইখানায় খুব যন্ত্র যন্ত্র বলছে 


নিদারুন জেল্লা ভেঙে যাচ্ছে
ভেঙে যাচ্ছে রহিত সীমানা

তুমি আত্মজ আঙুলে লাগিয়ে দিচ্ছ
স্নানের শর্করা

দিক ভুলে যাচ্ছি


নভস্য শেষের কবিতা ৩



মিতাসু-
-পার্থসারথি

তাহা তাহারা আহারকে নামিয়েছে
সুমি দোতলায়, ডানারা আর হাম্পিতে নেই জেনে
আঠাশটা বাসি গোলাপকে মদে ভিজিয়ে নিচ্ছি
                          সম্পর্কের বাঁদিকে বসাবো

বলারা আর রুমালে নেই
নেইরাও আর কিছু বলাতে নেই

একটু থামলেই হা-হা-দের নাবিকতা
জাহাজে উঠে এই প্রথম অঙ্গাঙ্গি ফিল করলাম
যেখানে গন্তব্য জানে শুধু মেলবিহীন দুটো জিভ
  

নভস্য শেষের কবিতা ২



আয়নামহলের টেক্সটগুচ্ছ
-সোমতীর্থ নন্দী




একটি পাখির মত মণিহার ঝুলিয়ে রেখেছি বুকে
আর কোনো নৈঃশব্দ আমার কপাটে আসেনা তাই
এমন ডানায় বেঁধেছো
নয়খানি দ্বার যেন তোমার গুঁড়োর মত লেগে আছে
প্রতিটি মালায়





বিছড়ি যায় মোসে মেরা শাম
যেন ঘাম ফুটে ওঠে আয়নার ভাঁজে,
সেজেছে আমার ছয়, তোমায় দেখাবে বলে
কত ভালোবাসা, শরীর কেচে নিই আমি
তোমার সাত ঝর্ণার জলে
পড়ে থাকে মলিন কাপড়,
নির্ভয় ফুলের অতলে

নভস্য শেষের কবিতা ১



শেষবার রঞ্জনাকে
-সুকান্ত দাস


বিহঙ্গম ময়ূর পাখাতে অলৌকিকতা অলক-তরীতে বিদায়ী নহবতখানার বিবাহমঙ্গল রাতের ওপারে লুকিয়ে ছিল একালের গোঁজারা আলেয়ার তীব্র পরকীয়া বুঝি রং লেগে সঙ্গোপন হারায় তুই হারাস এক আকাশ জোনাক শতক বাইরে রূপকথার উড়াল আনন্দসরণি বেয়ে শোকের শহর একান্তে জেগে থাকা আবির্ভাব নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন, নীচ বিরোধিতা, উৎস খুঁজে নিতেই সারিবদ্ধ চিতাকাঠ শুয়ে পড়ি অদৃশ্য হাতেরা হাড়ের ওপর পাহাড় চাপা দেয় চাপা পড়তে থাকে তুই, তোর শরীর, তোর ওম

Saturday, 17 August 2013

নভস্যের কবিতা ৭



চিহ্নকের অদৃশ্য ছুরি
-      রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়


খুব গাঢ় হয়ে উঠছিল বৃষ্টির ছায়া

স্নায়ুকোষে খুব সতর্ক একটা সাপ
দুলছে
এপাশ
ওপাশ

বিষণ্ণ তার নাম খুঁজছিল

জলকণারা ঝাঁপ দেবার আগেই আঙুল তার পলায়নবাদী চিহ্নের ভেতর

যা নেই তাই চিহ্নক

আমি অর্থের কথা ভাবিনি তেমন
হারিয়ে যাওয়ার কথা
ভেজা রাস্তার কথা
এসব অপরিহার্য নয়

আমি তো দেখেছি অচেনা পায়ের শব্দে কীভাবে তুমি নামিয়ে রাখো অসুস্থতা

বিস্ময় তার নাম খুঁজছিল

নিবিড় যত্নের পাশে
হলুদ জখম                                                                                         
ছায়ারা যখন গুটিয়ে আসছে
চিহ্নিত বস্তুর ভেতর
স্মৃতিসমারোহের ভেতর

আমার সলিটারি পায়ের মতি ও গতি নিয়ে আমি খুব বিব্রত হয়ে উঠি

প্রতিরাতে পালানো অনুষঙ্গ
নিহিত আশার ম্যাজিক থেকে
অনিবার্য ঈশ্বর থেকে