Saturday, 17 August 2013

নভস্যের কবিতা ১



অন্বেষন
রমিত দে

কাদা ধোওয়ার কথা ভুলে একটা গাছ যখন তখন ঢুকে পড়ছে ভেতরের ঘরে
জামা তুলে দেখাচ্ছে তলপেটের সেলাই ,
রাত জাগলে সকালে স্কুলে যেতে পারবে না,তাই
খুব ঠান্ডা ঘুম থেকে ওকে ছিঁড়ে দেওয়া হচ্ছে গানের পাতাটি

পাতা উড়ছে,পৃথিবীর সমস্ত ওড়া ঘুমন্ত সব চেকপোস্টের কাছে
         প্রকৃতি রচনা রেখে ফিরে আসছে
খাঁ খাঁ করছে মানুষের চুরি
এই চুরির জন্য কত দেবে ভাবছ ?
এই থালার ওপর মাংস,যা  থালায় ধরল না !

সঠিকভাবে চিনতে পারল না সিঁড়ি
আর চৌকাঠ বিলি করল বাড়ী বাড়ী ,
দরজার একটা ধারনা থেকেই গেল

ধরো তুমি, এইমাত্র দরজার , এইমাত্র ঘোরানো সিঁড়ির
দ্যাখো,পিলসুজের ভেতর দিয়ে কারা ঢুকে পড়ছে পাটক্ষেতে !
প্রসবযন্ত্রনা থেকে ফকিরের কাছে  ফিরে ফিরে আসছে দোঁহাসমগ্র

                   

Friday, 2 August 2013

শ্রাবণ শেষের কবিতা ৮



সম্ভাবনা
      -অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

যে আমি সঘন থেকে খুঁটে তুলছি মোহ
ভিড়ের জানলা থেকে আগাপাশতলা মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি
ঐ দূরে না দেখায় ঘুমন্ত মুখের পাশে
আলগোছ ওষ্ঠ এঁকে লিখে রাখছি বৃষ্টিকথাকলি-

সে আমার হাহাকার সমুদ্র পেরোতে চেয়ে
লবণাক্ত প্রতিদিন
ইহকাল পরকাল খেলার গভীরে

সম্মোহিতের মত নতজানু ভাসিয়ে যাচ্ছি
হৃদিমেঘ, রামধনু ,পাঁপড়ি খসানো কুয়াশার কাল
আলটপকা ফুলে ওঠা বাতাসের গর্ভ থেকে
একপা একপা করে অনন্তবিলাসী

পিয়ানোয় সাদাকালো সারণী মাড়িয়ে
যে যাওয়ার সে চলে যায় কড়িতে, কোমলে
আমার অন্ধতা শুধু, আমারি প্রলাপ

কাছাকাছি নিয়ে গেল অসম্ভবের



শ্রাবণ শেষের কবিতা ৭



একটি বৃষ্টির মৎস্যকন্যা
              -তন্ময় ধর

নীলনলিনাভমপি তন্বি তব লোচনং ধারয়তি কোকনদরূপম
কুসুমশরবাণভাবেন যদি রঞ্জয়সি কৃষ্ণমেতদনুরূপম-  গীতগোবিন্দম


জলের অন্যান্য আলো
 স্যাফায়ার রঙের একটি তৃষ্ণাকে নিয়ে খেলছে

দীঘল জলের ওলট থেকে
 একটি আলোর অভিমান
তীর হল, তৃণজন্ম হল

প্রাকৃত শিলালেখের গন্ধে
 সমস্ত আপেক্ষিক রন্ধন
স্তন্যপান ভেঙে ফিরছে মৎস্যজীবনে

আদৃত বৃষ্টিকাল

স্বাদফেরত
একটি বুদবুদে পায়ের আভাস ফেলছে
  কুসুমভাঙা লালচে জীবন



শ্রাবণ শেষের কবিতা ৬



শিলচর
-         রাজেশ শর্মা

১।

আই মোর দিন যায় ভাবো তে
রসিয়া বন্ধু আসিবার কথা বৈশাখ বিহুতে
-------------------------------------
ওরে রসিয়া বন্ধু না দেখিয়া ঝমঝমায় মোর গা
 [গোয়ালপাড়িয়া লোকগীতি]


যে ছাদে জলবায়ু পড়ে না
সেখানে তুমি জুম চাষে প্রলুব্ধ করো


আমি ঢের জুমে জমে গিয়ে দেখি
তুমি আছো সচরাচর
আর তোমার অই জানালার পাশ দিয়ে
কে যেন চালিয়ে দিচ্ছে হাওয়ারসাইকেল
অই যে দূরে দ্রুত ছুটে আসছে ভুবন হিল
আমাদের এখন ও সে চেনা জানা হল না



২।

মুই ত পিরিত করুং না / / চেংড়া বন্ধু ছাড়ে না // আরো দিয়া যায় পিরিতের বায়না //
                                                    [গোয়ালপাড়িয়া লোকগীতি] 

আমার মুহুর্মূহু মুহূর্তগুলো যে কুনো জলে ভাসিয়ে দিয়ে বলছো
স্মৃতি কে আঁকড়ে রইলাম এইবার স্মৃতি পোষ মানবে

এই ভাঙন থেকে তোমাকেই চুরি করে নিচ্ছি টের পাচ্ছ না...
অথচ এইবার দেয়াল দৃশ্যে ক্যালিওগ্রাফির ভূত সওয়ার হয়েছিল
আর এদিকের আঙুলে অপর যৌনতাও নেই যে আঁকড়ে রাখে
আমার আঙুল থেকে আমি খসে যাচ্ছে

শ্রাবণ শেষের কবিতা ৫



বরফ 
-     হাসান রোবায়েত
       

ওটা গাছ নয়, পাতার মাঝেই পুড়ে যাচ্ছে পেন্সিল 
তার হাওয়ায় মিথে জলঢোরা 
একবার এগিয়েই নেভানো এপ্রিল 
ডুবের সাদায় যখনই বন্যা এলো ফুলবোনা 
বাইরের সিনেমায় লোকটা বৃত্ত 

বেঞ্চিতে ফাঁকা ফাঁকা রোদ 
দুয়ার 
মা তার সমস্ত শ্র-বোন ঢেলে আটকাচ্ছেন 
জিরাফ 

যেন কেউ বরফ বললেই থেমে যাবে ওড়া

শ্রাবণ শেষের কবিতা ৪



তার পরের কবিতা
-         সম্বিত বসু

(ছয়)

জীবন নিয়ে সত্যি বলছি ভাই
আর ব্যাঙ্গাচি না
এখন থেকে সকালবেলার ব্যায়াম
নিজের পা ছুঁয়ে থাকা
দুঃখ টিজ করলে এবার থেকে
কলার তুলে কথা হবে
আস্থা চ্যানেল বলে দিয়েছে
নতুন রোদ্দুর মনে পড়লেই রক্তপাত
বন্ধ হয়ে যায়, তবু শ্মশানের মত ফাঁকা
হাততালিগুলো বেজেই চলেছে
এখন যেখানেই লাল
সেখানেই তোমার মুখ
চোখ বোজা সিঁদুর পরার ছবি
চোখ বুজলেই ভেসে উঠছে
সকাল থেকে আরও ভাসছে পাখিরা
ঢিচক্যাও ঢিচক্যাও সুরে তারা ডেকে চলেছে
আরও

শ্রাবণ শেষের কবিতা ৩



প্রিয় জিম করবেট
-         নীলাদ্রি বাগচী

৪।।
সে এসেছে    সে ফিরে গিয়েছে বারবার......

সেক্সপিয়ার মেনে নরক তখন ফাঁকা
পৃথিবীর আনাচ কানাচ ভরপুর
জল ছুঁয়ে জাগার মতো পুরনো অভ্যাস তখন
ত্যাগ করছে জহুরি রমণী
কি ভাবে বোঝাবো তার পাতাবাহার শব্দ
                               ঘন ঘন সর্দি
অনুবাদ করলে আমগাছ
                      পণ্ডিতজির বাড়ি
কুড়িয়ে পাওয়া সোনার গল্পের মতো ঘনায়মান

ভাবনারে মাতাচ্ছেন সাহানা বাজপেয়ী
ভাব বলছে আজ তবে প্রত্যাশায় হবে
আর

কোনও শব্দ নেই
স্পষ্ট দেখা অন্ধকারে  ছাগল শিশুর নড়াচড়া......

৫।।
শ্রাবণ গড়াচ্ছে, যাচ্ছে জন্মদিনে;  চায়ের পিপাসা ছেঁকা রাগে। গান খুঁজছি সারাদিন। শুভেচ্ছা বা বনদেবী বড়জোর ম্লান আলোকের ফোঁটা। ঘেমো চশমায় আর নজর চলে না। খেয়াল না করলে এই বানভাসি সকাল পোড়াবে। নিড়ানো পাটের ক্ষেত অন্য নামে জলের বিস্ময়, যাবে এই শুধু থেকে । নবমীদশায় থাকবে। পাকেচক্রে ওস্তাগর রিফু করবে ছেঁড়া বনভূমি। সরলবর্গীয় রেষারেষি।
ভাবছি তোমার কথাও।
তুমি কোনখানে
                      খুঁজতে যাবে সাপ?
                      পাহাড়ি মাছের জন্য তিনমুখো বঁড়শি ফেলবে?
                     খুঁজে পাবে বুটজুতো শুকতে দেবার মতো অতখানি জমি ?
দীঘল ছায়ার নাম বহুপর্ণী। দিন তো চলে না। তবু।
সেই ইতিহাসমুগ্ধ বহুতল পাঠক তোমার, অপেক্ষায় আছে। আজ অবশেষে চাঁদ। আজ জানুগতি সেও আসবে। অবসর ভেঙে উড়বে ব্যাবলার। পিছল জমিতে পড়বে রবার সোলের ঘন ছাপ

৬।।
আঁকাবাঁকা খাত ভেঙে উঠে আসা চল্লিশ গজ
ইবটসন  ফিরে যাছে  পাউরি

তুমি একা
পুলের বাঁ পাড়ে
সামগ্রিকে গাড়োয়াল ছড়িয়ে রয়েছে সবদিকে
বসতে পাড়ার মতো কোনও গাছ আশেপাশে নেই

সঙ্গে আনা পেট্রোম্যাক্স জ্বেলে তুমি ফিরে আসবে বন বাংলোয়
সন্দেহ হবে

অলৌকিক ক্ষমতায় কাঁধ থেকে, পিঠ থেকে মাংস খাচ্ছে একাকী গুহায়