Thursday, 12 April 2018

মধুমাসের কবিতা ১২

Image result for abstract universe painting by famous artist


ভীতু
       -রাজা 

ছিপছিপে হাওয়ায় জট বাধে
শ্রদ্ধা ও ভয়
আমার বিদ্যা- বুদ্ধি নিয়ে রিকশা মহলে
মিথ চালু হয়,যা কি না হাস্যকর,
আদতে পরিত্যক্ত সরস্বতীর নিচে দাঁড়িয়ে
প্রাক্তন প্রেমিকাদের শরীর স্মরণ করি

সন্ধ্যা শহরে মাতাল নামে,
তাস ওড়ে, পাগল গড়াগড়ি খায়
আর ওষুধের দোকানে সিগারেট ধরিয়ে
জীবন'কে আমি
"ফুঁ " বলে ডাকি আবার
ভাললাগে না এই একঘেয়ে বেলাল্লাপনা

ফিরে তাকাই,
জিম সেন্টারের পাশ দিয়ে যেতে যেতে ভাবি
এবার থেকে সুস্থ হব, সুন্দর হব,
ডাক্তার বাবুর মেয়ে প্রেমে পড়বে আমার

বেঁচে  থাকার প্রতি লোভ যত বারে
ততো ঘিরে ধরে মৃত্যু ভয়
আজকাল মৃত্যু স্বপ্নে দেখি
এক গা ছমছম বৃদ্ধাশ্রম,
সাদা থানের ভিড়ে
মায়ের মত কেউ, তোমারি মত কেউ
ঘুমপাড়ানি গায়

(ছবিঃ লিওনার্দ এইটকেন)

মধুমাসের কবিতা ১১

Image result for absolute space time painting

রাতের আকাশটার দিকে তাকিয়ে আমি ভাবি
                                                         -সুপর্ণা মণ্ডল


এখন বেশি রাত নয়
কালপুরুষ চিনতে শেখা
ভূগোলে শিখিয়েছিল কোনটা গ্রহ, কোনটা নক্ষত্র
বাবাকে জিজ্ঞেস করতাম, ধ্রুবতারা কোনটা
তারা দেখে পথ চেনার গল্প করে বাবা
আর্মিতে যেভাবে শেখাত
ভূগোলস্যার ঘরের সিলিঙে অনেক তারাদের স্টিকার লাগিয়েছিল
কারেন্ট চলে গেলে সিলিংটা আকাশ মনে হ’ত
রাতের আকাশটার দিকে তাকিয়ে আমি ভাবি
এইসব তারাভর্তি আকাশ বিশাল একটা ঘরের সিলিং বই তো নয়!


(ছবিঃ জন গোল্ডিং) 

মধুমাসের কবিতা ১০


Image result for absolute space time painting

ছোঁয়া নিরাময়
         -পঞ্চতপা দে সরকার

বসন্ত আসেনা একাকী অক্ষরেখায়,প্রান্ত পলাশে রোদের যত কাটাকুটি খেলা,বসন্ত আসবে বলে কোকিলের সংযমী ডাক অথবা নীল চরাচর,সবই ফিরিয়েছি উৎসব মুখরিত হেলায়,
আমাকে ছোঁয়নি ওরা,
শিমুলসিক্ত প্রেমে উপেক্ষা হেনেছি বারবার।
শুধু এক বাদামী ঝলক
হাত পেতে দাঁড়ায় যখন মাধুকরী চোখে,তীব্র ঝুলিতে তাঁর নিজেকেই রাখি নতশিরে।
ছোঁয়া নিরাময় আসে বসন্তের নামে।


(ছবিঃ জিয়ানী মাদারওয়েল)
         




মধুমাসের কবিতা ৯

Image result for space abstract geometry painting

ফেরা
    - উমা মন্ডল

অঘ্রাণ এসে গেল
 সোনালী ধানের বোঁটায় এখন ঋতুরঙ্গের গন্ধ,
ধান উঠবে বইয়ের তাকে
পড়া যাবে হলুদের অভিধান অন্যভাবে।
আলপথে কে কে ব্যাভিচারী চোখে আকাশ দেখেছে
বা সূর্যকে অভিশাপ!
অন্তঃপুরের খবর দেবে ভিক্ষানিবারক।

পাখী দেখে গৃহস্থের উঠানে জ্বলছে সোনালী শরীর
প্রয়োজন মিটে গ্যাছে।
পিষে তেল বার করে উৎসবের জাহাজ
 চলেছে দেশের খবর নিতে,
তারপর সংবাদ-পত্রের পাতায় লেখা হয়ে যাবে
'ব্যাক্তিটি আকাশ দেখছিলো...
দাউদাউ খড়কুটোর কান্না শোনেনি
কেউ শোনেও না....

এখন ধোঁয়া খানিক শান্ত,
উপসংহারের শেষে বাড়তি শব্দের
 ব্যবহার কেউ করে না।
বয়ে যাওয়া সমান্তরাল জল দেখলে
 আমার ডান চোখ কেঁপে ওঠে,
ঠাকুমা বলে অলক্ষণের দ্রাঘিমা....
সময় ফিরে ফিরে আসে
সবাই জানে,শুধু মন্দবুদ্ধির বাস্তুসাপ
কেন বিষ ছড়িয়ে দিলো নিজের উঠানে
সেই প্রশ্নের উত্তর অক্ষর এখনও অধরা  ,
এদিকে অঘ্রাণ আবার ফিরে আসার দিন গুণছে....
                         






(ছবিঃ মিশেল কুরিয়ার) 

মধুমাসের কবিতা ৮

Related image

স্বপ্ন ও ঘোর
          -অ নু স ঞ্জ না ঘো ষ 



স্বপ্ন ও ঘোর সমার্থক হলে আমি ইথার বিছিয়ে দিই তিস্তার এপার থেকে ওপারে। চশমায় জমে ওঠে কালো রাত। পূবের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে মেঘ। বৃষ্টিও ভিজে যায় জলের স্পর্শে। নীল একটি অভিমান। গত রাতে খবর পেলাম মন ভালো নেই স্বপ্নের। জ্যোৎস্না পেরিয়ে চাঁদ আর তার মাঝেই মফঃস্বল, রোদ মাখামাখি জীবন। ব্যস্ত শহরের মত জেগে আছে ঘোর, ঘুমের দাবি নিয়ে।

সময় সারনী ধরে হেঁটে গেছে বহু স্রোত, তবু বদলায়নি পাহাড়, নদীও সে কথা জানে। খুব গভীরে প্রবল ভাবে ভাঙছে কিছু। বদলাচ্ছে চশমারর কাচ। বাড়ছে সম্পর্ক আর মন। বহু পাথর গড়িয়ে গেছে, সবুজ ঢেকে দিয়েছে স্রোতের গভীরে জমে থাকা যাবতীয় ক্ষতচিহ্ন।

তবুও কেন্দ্র বিন্দু একটাই। নীলের গভীরে নীল খুঁজে চলা। নিঃশ্বাস থেকে হাতের রেখায় জীবন লিখে ফেলা।

জীবন অর্থেই তোমাকে পাওয়া।



(ছবিঃমার্ক চ্যাডউইক) 

মধুমাসের কবিতা ৭

Related image

আমি
       -কৃপা বসু

     মা, বাবা আর আমি খিদের ভেতর কাঠের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে হাঁটু মুড়ে বসতাম ভ্যাপসা দোকানের সামনে। পেটের মধ্যিখান চিরে কত্ত প্লেন ওড়াওড়ি করেছে ছেলেবেলায়।

     স্কুলশিবিরে ট্রেনিং নেবার সময় ডালিম গাছের গায়ে ইউনিফর্ম ঝুলিয়ে রাখতাম। সব্বোনেশে হাওয়ার পায়ে জোনাকি গুঁজতাম ময়লা ময়লা পালকে ফুঁ দিয়ে দিয়ে।

       ক্রিম মাখামাখির বয়সে মাছ ধোয়া জল গায়ে মেখে বন্ধুদের সাথে স্নান করেছি বহুবার দিঘি পাল্টে পাল্টে। প্রতিবার প্রজাপতির সংসার মরে যাবার পর চিঠির বাক্সে বিঁধিয়ে রাখা মাংসের শরীর জমিয়েছি।

      রাত বাড়লেই মৌতাত বিলোনোর চাকরি করতাম সেলফোনে। কতবার চুষে চুষে ছিবড়ে করে ফেলেছি ল্যাংটো বালিশ। পুরষ প্রেমিকের বীর্য মেখে মুঠোর ভেতর ঝড়ের দিন ভরে রাখতাম।

     নতুন পদবী গায়ে সেঁটে নির্দিষ্ট অ্যাকোরিয়ামে নির্ভুল সঙ্গম সেরেছি। খিদে মিটে গেলে মেঝের ওপর থুক করে ছুঁড়ে ফেলেছে মালিকপক্ষ। এক পা চলার লোক ছিলনা যে, তাকে নিয়ে ঝাঁচকচকে পলাশের দিন গিলে খেয়েছি।

      বন্ধ্যা দেহে বাচ্চা ধরেছি তিন তিনটে। নাড়ি কেটে দুধ দিয়েছি ওদের জিভে। ছাদ ভেঙে আস্ত চাঁদ কুচোকুচো করে কেটে পুরে দিয়েছি জ্যান্ত মুখে। ছেলে মেয়ের দল স্কলার পেয়ে তারা এখন  আমেরিকা, লন্ডন।

     তারপর থেকেই চিৎ হয়ে শুয়ে আছি হসপিটালের বেডে। সময় পেরোলে ম্যাড়ম্যাড়ে সুতির শাড়িরা যেভাবে একলা হয় একটু একটু করে,সেভাবেই উল্টোদিকের ফাঁকা সিটে চুপচাপ বসি। জাগরণী সন্ধের পাশেই শ্মশান সাজিয়ে বসে থাকে সর্বগ্রাসী ডোম।

এতগুলো বছর নিজেকে কেটে টুকরো টুকরো করে প্লেটে প্লেটে পরিবেশিত করার শেষে, আলটিমেটলি বুঝলাম এক বিন্দু বালির দানা ছাড়া আর কিচ্ছু হতে পারিনি, কিচ্ছুনা।




( ছবিঃ সেভারিনি গিনো) 

মধুমাসের কবিতা ৬




জোনাকি ১
                 -পিয়ালী বসু ঘোষ 

বিচ্ছেদ ,রিপু ,চোখের জল
সবমিলিয়ে একটা মনখারাপের রাতে
ফ্লাইংকিসে বেবাক বোকা বনে যাওয়া সওদাগরি ঢেউ
নীলবিষে জর্জরিত কুণ্ঠা
এক কাপ চায়ে ভিজিয়ে খাচ্ছে চাঁদরঙা বিস্কুট
মাঝপথে নাবিক মেতেছে গোপন অ-সুখে
হাতড়ে বেড়াচ্ছে অন্তর্বাসের নিচের লালচে তিল !
আমি একটা গোটা মরশুম পার করে
ক্লান্ত আমার হাইরাইজের কার্ণিশে
অন্ধ জোনাকির সাথে লুকোচুরি খেলছি
অহর্নিশ শুধু
নিশি ডাকছে ,নিশি ডাকছে ........

জোনাকি ২

যেমন করে একটু একটু করে সিঁড়ি ভাঙ্গি
তেমন করেই বিপন্ন যৌবন ভাঙছে
বর্ষীয়ান জোনাকি খুবলে খাচ্ছে মন,সময়,শিশির
''
শুকনো পাতায় মর্মর ,দেখি
তোমার ছায়ারা দীর্ঘ হয়েছে এতদিনে
ডানাছেঁড়া জোনাকি পথ দেখাচ্ছে তোমায় ,ফেরার
"
দুলে উঠছে পাইনের বন ,মূর্তির বাংলো
একলা নদী আর শীত রাতের কনসার্ট
তোমার একাকার মন,বেসামাল পথভুল
আমাকেই খুঁজেছিলে কি ?
সে রাতের সাক্ষীও জোনাকি !

জোনাকি ৩

ছেঁড়া ঘুড়ির মত কেটে যাচ্ছে ছোটো একটা ব্যক্তিগত দিন
পোষা খরগোসের পায়ে নরম রোদ্দুর ছুঁয়ে গেছে বুক পকেটের হলুদ দুপুর
ডানা ছেঁড়া ফড়িংএর বিদ্রুপ ভালোবাসা শব্দটাকে ফর ফর করে হাওয়ায় ওড়াচ্ছে
শারীরিক প্রতিষ্ঠান চন্দন স্নানে সূচী হবার পর
চিতার আগুনে শরীর সেঁকে নিচ্ছে একমুঠো জোনাকি
তোমার অণুগল্পের অভিসন্ধিমূলক চরিত্রগুলোর ইটচাপা অভিমান
আমাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে


(ছবিঃডেভিড গাজদা)