Monday, 9 December 2019

মৃগশিরার মাসের অনুবাদ কবিতাঃ ডেনমার্ক থেকে ওলগা রাবঁ



খোলা 

খোলা: কোন শল্যবিদ ছুরি রেখেছে আমাদের পাত্রে
মেডুসার প্রতিরক্ষার একটি আয়না

কে এখন তার স্তন পুষ্ট করবে ? তোমার সুন্দর মুখ? তোমার কদর্য মুখ?



আমি যে সাপটিকে পুষ্ট করেছি আমার হলুদ, আমার নরম সোয়েটশার্ট, আমার ক্রিমে

আমার মুখে ঠান্ডা ক্রিম লাগছে, ভালোবাসার একই ক্লান্তি দায়।



আমার মুখ অশ্লীল সিনেমা, ভোগ্য পণ্য, নীল ফুল যা দুধে অদৃশ্য হয়ে যায় তা পূর্ণ

আমার মাতৃভূমি, মাইগ্রাস, আমার মাতৃভাষা, আমার জিভ মাংসের সাথে ভারী,

আমি আমার পিতামাতার চিহ্নটি প্রিয়জনের রোগ হিসাবে বহন করি।



সাদা পোশাকে সাদা দাগ, হার্ট-ফিটনেস, ঘরের পিছনে সৈকতের পাশে কুৎসিত বালিতে সামান্য সবুজ পাথর,

পরিচিত সৈকত, আপনার মুখ, ঘুমের অছিলায় বন্ধ,
 এটি কিছুই নয়, কিচ্ছু না



মেডুসা, আমি তার মুখ দেখতে পেলাম দূরের দূরের বালিতে, সূর্যের প্রথম রশ্মির দ্বারা আলোকিত,

অরণ্য এবং শিশুর বিছানা,
এর প্যাটার্নটি বড় হাতের মতো দেখায়,



দিনের প্রথমদিকে ধোঁয়াশা উপকূলের উপর দিয়ে যায়,
পরে সমুদ্রের মহান দেহ তার রাস্তাগুলি আলোকিত করে,

আমরা আমাদের নিজের হাতে হালকা ভাবে রেখেছি, নার্ভাস হয়ে পড়েছি, আমরা সাদা সুতো কেনাকাটা করেছি,



আমরা প্রাচীরের বিরুদ্ধে আমাদের গাল ঠান্ডা করেছি, যত্নশীল, সাদা পাথরগুলিতে প্রচন্ড উত্তপ্ত পর্যটকদের,

একটি একক পোকার উপর হামাগুড়ি দেওয়া একক পাথর



আমি গ্রীষ্মের পরিষ্কার মুখে জেগে উঠি, আমার চোখগুলি আপনার শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি দিয়ে ঢেকে গেছে।

সকালটা পুরনো।



( ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে ১৯৮৬ সালে ওলগা রাবেঁর জন্ম। বড় হওয়া ওই শহরেই। কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস এবং অনুবাদেও তিনি সিদ্ধহস্ত। মূল ড্যানিশ থেকে বহু পরিশ্রমে তাঁর কবিতার অনুবাদ করলেন উষ্ণিকের সম্পাদক)

(ছবি ঃ সোফি ম্যাথিয়াসেন)





মৃগশিরার মাসের কবিতা ১৭

Broadway Boogie Woogie (1943) - Piet Mondrian

প্রাপ্তি 
          -উমা মন্ডল 

জন্মদিনে  পায়েস  হয়না............শুভেচ্ছা  বার্তার  স্তূপ  পড়ে  আছে  বস্তা  ভর্তি  হয়ে
বসে  আছি  মাথাভর্তি  নির্জনতা  নিয়ে ; দেয়ালের  গায়ে  বসা  পোকা  কেটে  দেয়  আস্তরণ
ছাড়া  পাওয়া  বিষাদের  জঙ্গল , সবুজ  কান্না .........বনজের  গর্ভ  থেকে  কোকিলের  গান
শুনি । ভালোবাসি  তানের  নদীতে নৌকা  নিয়ে  ভ্রমণে  বেরাতে............

বেলা  পড়ে  আসে ; দিনের  অর্ধেক  চলে  গেছে , নেশাগ্রস্ত  পথ  চলতে  চলতে
পায়েসের  গন্ধ  পাই ; আজ  জন্মদিন  নয় , কালসর্পের  কাহিনী  মা  কি  ভুলে  গেল........

পড়ে  আছে  খোলসের  কঙ্কাল , রক্তাক্ত । ছুরি  দিয়ে  কেটে  দিচ্ছে  ভাণ্ড  নিয়ে  শক্তিরূপা
ভস্মের  প্রকোপে  অন্ধ  হয়ে  গেছি  একেবারে। আমার  পুরোনো  মাকে  দেখলাম  কতদিন
পর জীবাশ্মের  মায়াচিত্র  থেকে  উঠে  আসতে

(ছবিঃ পিয়েঁ মঁদ্রা)

মৃগশিরার মাসের কবিতা ১৬

Related image


নদী
       -পাপড়ি গুহ নিয়োগী




অন্ধ রাক্ষস ড্রেজিং এর কাজ পেয়েছে



পচা গলা রক্তে শকুনের নগ্ন নাচ

আত্মহত্যা চিৎকার করে তল চায়



তুমি রাষ্ট্র পরিচালিত নরকের কথা বলো

আমি অসুখের হাত ধরে সাঁকো হই



অবশেষে ঘুমিয়ে পড়ে নদী, কান্নার দাগ রেখে





রক্ত নিয়ে খেলা এদের জন্মগত অধিকার



প্রত্যক্ষদর্শী ভয়ের ভেতর দাঁড়িয়ে

নিজের মৃতদেহের সাথে নিজস্বী তুলছে



এখন আর নদীর ভেতর ডুবে মরা যায় না

(ছবিঃ জেরেমি ইওর্ডানোফ) 

মৃগশিরার মাসের কবিতা ১৫

Arshile Gorky famous abstract artist Orphism

একা
         -দীপায়ন পাঠক



শ্যাওলার সাথে

কেমন যেন বন্ধুত্ব হয়ে গেছে



সূর্য্যের আলো কমে এলেও

ডাকে না কোন মুখ



হঠাৎ করে সন্ধ্যা নেমে এলে আর

নতুন করে হাওয়া ওঠে না



হেমন্ত বিকেলে কালো নৌকায়

ভাটিয়ালী গায় না মাঝি



শুকনো কাশফুলে পিঁপড়ের বাসার

অন্ধকার, ভাবায় না আর



এবার হয়তো একা থাকাও শিখে যাব

(ছবিঃ আর্শাইল গোর্কি) 

মৃগশিরার মাসের কবিতা ১৪

Related image
স্নায়ুগাছ
            -রাজেশ শর্মা


এমন উপলব্ধির ভিতর

একটি গাছ হয়

মায়াময় একটি গাছ


তার শিকড় ছড়িয়ে পড়ে স্নায়ুতে

বিকেল ঘনিয়ে আসে


যে পাখি সারাদিন রৌদ্র খুঁটে খেয়েছিল

সে এসে বসেছে কোলায়


রাত্রি হচ্ছে


খিদে পাচ্ছে জলের মতন


তোমার ডানার ভিতর

ঘাপটি মেরে শুয়েছে ঘুম!

(ছবিঃ ব্যাসিলী ক্যান্ডিনস্কি) 

মৃগশিরার মাসের কবিতা ১৩

Related image

দুলাল পাল : রাষ্ট্রহীন পিতার মাংস ; আসাম প্রদেশ
                                                                                -সু চক্রবর্তী 


সম্পর্ক গাঢ় হলে একধরনের দাগ পড়ে।সে দাগের চারপাশে ঘুরঘুর করে ওঠে তেমাথা সেলুন, ঐশ্বর্যহীন নাভিমূল। চুপিসারে এসে বসে পড়ে লাশ।আহার।আমরা দিন দৈনতায় ভুগি, অবুঝ সেলামি ফুঁড়ে ভেসে যান সন্তানেরা....তাঁদের হাতে মুখাগ্নির সামান; নুন, মরাভাত আর শকুন হয়ে যাওয়া পুরুষটি।



তুমি জেগে থেকো না বরং কিছুটা সময় কাকতালীয় ভাবে অপব্যয় করে যাও।একটা হাত ক্রমশ গ্রাস করছে তোমার বিস্মৃতি ও তার অতলে থাকা যাবতীয় রাষ্ট্রয়াক্ত শোকভোগ !  গুনে গুনে রাখো তাকে।  মাংস পচে উঠলে স্বীকৃতি  অন্তঃস্বত্বা যুবতীর  মতোই দেখায়। তোমার দেহজপুকুর ; নিমেষে ছাইভাত....আক্কেলসেলামি !   জলভরা শ্বাসে আটকে যায় কাঁটাওয়ালা মাছ, তাদের টুকরো দেহে আটকে থাকে অশ্রুমায়াপ্রেম। চোখ জুড়ে ত্রিবেণীসংগম.....




গোটা একটা গোষ্ঠ...থরে থরে সাজানো আছে জরাশোকমৃত্যু। ইট,পাথর, বালু, সিমেন্ট দিয়ে তৈরী হচ্ছে এক একটা  সুদৃশ্য শেকলঘর । সামনে পার্ক, জলের সুবন্দোবস্ত!  এতটুকু সব ঠিকঠাক, ঠাকঠমকীয় ! ভেতরের হাওয়া,  হিম! সারি সারি লাশ পড়ে আছে.....নিভৃতে.. একা, দারাপুত্রহীন!



অনেকটা ঘোরের মধ্যে হেঁটে চলেছে পুরুষ। তার দু হাতে বাজারের থলে,ভরতি.... নিয়মমাফিক । চাল ডাল আর আনাজপাতির আড়ালে উঁকি দিচ্ছে লাল হয়ে যাওয়া পিতার মাংস! এবার মুখাগ্নি হবে।

(ছবিঃ গেরার্ড রিখটার) 

মৃগশিরার মাসের কবিতা ১২

Related image

দেখা হোক আরো একবার
                               -পিয়াল রায়

এদিকে শীতটা একটু কমতেই
                হঠাৎ  খানিকটা বসন্ত
                     জিরোতে এলো আমার বাড়ি

হেমবর্ণ মুখ
তেল চকচক গালে  ঠিকরে নামছে
মন কেমন হাওয়া

গান বেজে উঠল অকারণ

সামনের যুবক গাছটায় একটা
           লেজঝোলা রঙিন পাখি
কার যেন নাম করে ডেকে যাচ্ছে একটানা
                                             সঞ্জয় সঞ্জয়

রোদের দরজা হাট করে খোলা
            ধীরেধীরে জমে উঠছে শৃঙ্গার

ভেতরে ভেতরে কোথাও প্রবল শব্দে
ভেঙে পড়ছে জল

সে এক অনন্ত পরম্পরা... অশেষ বিস্ময়

অন্ধকার উজিয়ে উন্মাদ কোনো অদৃশ্য তরঙ্গের দিকে
             
 প্রতিধ্বনিত হল

' আবার দেখা হোক
         আমাদের আবার দেখা হোক '

(ছবিঃ জ্যাকসন পোলক)