Friday, 5 January 2018

হিমেল মাসের কবিতা ২৩

Image result for abstract painting vietnam

এন.আর.সি মিডনাইট,  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭
                                      -সুতপা চক্রবর্তী 

টুকরো করে রাখা আঙুলে নুন হলুদ মাখাই
দমে রাখি মিনিট পাঁচেক

পোড়া গন্ধে লাশ হয়ে ওঠে ক্ষুদিরাম মূর্তির আবহাওয়া, ভাষা শহীদ স্টেশন, 
আর আমার
উনান এর পড়শিরা

চিমটি কেটে কালোজিরে ছিটুই তাতে
গরম বাটি, থালা স্লোগান শোনায়

বিদ্রোহ করে!


কাটা আঙুল নিমিষে লালমুচমুচে


আ   লু    ভা   জা!

(ছবিঃ লে হিউন লাম) 

হিমেল মাসের অনুবাদ কবিতাঃ মেক্সিকো থেকে রোজি ইভিলিন লিমা


Image result for rossy evelin lima



ভাঙা হাড়
        -রোজি ইভিলিন লিমা 

আমি এক সুন্দরী ভাঙা মহিলা,
আমার অস্ত্র তিন স্তরে বিভক্ত।
আমার স্বাধীন দেহ জাগ্রত,
নিখুঁত আকার আমার দেহ,
আমার ধাঁধা একটি গুপ্তধনের থলি, অবারিত এক থলি
প্রতিহত এক তৃষ্ণায় তা আমি ধরে থাকি
আমার পায়েরও তিনটি খন্ড
আমার অপরিচিত মন্দিরের ত্রিকোণমিতি
টুকরো হয়
                         তাদের থামানোই যায় না

তারা সমুদ্রের স্রোত
এবং তারা ইচ্ছামত ভেসে যায়
আমার আবদ্ধ হাত জড়িয়ে যায় হরিণের শিং-এ
রোপিত বৃক্ষকান্ড
যা খনন করে ফেলে নিজস্ব পথ
হাত এতটাই বন্ধনমুক্ত
আমি এক ছিন্নমস্তা
এক মহীয়সী ছিন্নমুন্ড মহিলা
আমার মাথা আসলে স্তূপমেঘ
কেননা আমি রানী
এবং আমার শরীর সাম্রাজ্য।
আমি
                 প্রসারিত হই
                                             সীমাহীন,
যা আমার সমস্ত সার্বভৌমত্বেই খালি হয়
শিকল যা একবার আমাকে জড়িয়েছিল
আমার হাড়ের ভেতর ভেঙে যায়।
আমি মুক্তিপ্রাপ্ত নারী,
দাসত্ববন্ধনহীন আমি।


(রোজি ইভিলিন লিমার জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৮ অগস্ট, মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ শহরে। সংস্কৃতিবান এক পরিবারে বেড়ে ওঠার ফলে মাত্র ছ'বছর বয়স থেকেই কবিতা লিখতে শুরু করেন রোজি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখার পাশাপাশি কলেজ জীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। যথেষ্ট আলোচিত এবং সমালোচিত এই কবি একাধিক আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত।) 

(কবিকৃত ইংরেজি অনুবাদের মধ্যস্থতায় এই অনুবাদ করা হল। ) 

(ছবিঃ এদোয়ার্দ বিদাউরে)




হিমেল মাসের কবিতা ২২

 Image result for abstract painting by bengali painter

পৌষালি.... 
       -নীলাদ্রি বাগচী

ক.
নিহিত অর্থের ভুলে সান্নিধ্য, নৈকট্য- গতানুগতিকে ভিন্ন এই আঠারো ঘন্টার অর্থ আঠারোটি জন্মদিন। পোশাকে বা আস্তরণে তার কোনো বুনন হয় না। স্মৃতি শুধু গন্ধ চায়, সম্ভবত অকারণ, সম্ভবত সানসিল্ক ব্ল্যাক। অন্যমনস্ক শব্দের গোড়া ধরে নেড়ে গেছে পহেলা পৌষ। গাঢ় শীত জমা হচ্ছে ভেতরে ভেতরে। কাঁপুনির সাথে থাকা কয়েক মূহুর্ত আজীবন স্থির করে দেয়। আরও শীত জমা হবে এরকম কৃতার্থ সময়ে। জমা হবে অনেক বিস্ময়।
অন্নপূর্ণা স্বহস্তে অন্ন তুলে দিয়ে গেলে এভাবেই জন্মদিন... এভাবেই বারবার আনন্দ ও সম্মিলন, পূনর্গঠিত এক বোধ...

খ.

আমার সঙ্কোচ সাথে তুমি ফিরে গেছ অবশিষ্ট জন্মদিন ধরে। সেই থেকে গুছিয়ে চলেছি। যা দেখি তাইই এলোমেলো লাগে। ফলে গোছানো। অগোছালো আরও দ্রুত আক্রমণ করে। ফলে অবিন্যস্ত। এইভাবে বছর কেটেছে। স্মৃতি ধরে হেঁটে আসা মুখ পাশ ফেরতা সময়ে মিশেছে। টগর ঝরেছে। শেষ চাঁপাটাও। এখন পূর্ণমান দিনে নতুন সংখ্যা লেগেছে।
ঠিকানা পাঠিও। আমি পত্রযোগে কুশল জানাব....

(ছবিঃ জানিকা ট্যাল্টস) 

হিমেল মাসের কবিতা ২১


Image result for abstract painting by bengali painter


ডাক 
      -অভিশ্রুতি রায় 


আসলে সবটাই রোদের মতো
পিছু পিছু কণাবাদী
পিছুপিছু রৌদ্রটান..
টানের উপর দিয়ে জন্মদাগ লেপ্টে দিয়ে যাও
আমার যা কিছু দাগ
সবই আলতায় ভিজে যাওয়া
দ্রুতগামী...
ছুটন্ত  ঘোড়ার পেছনে আশাবাদী
আলগা সুতো দিয়ে জাদুকর হয়ে ওঠে

(ছবিঃ আউগুস্তে হের্বিন) 

হিমেল মাসের কবিতা ২০

Image result for abstract painting by jose joya

চিত্র প্রদর্শনী 
         -শমীক ষান্নিগ্রাহী


১।
আলো নিয়ে যে সব কথা বলা হচ্ছে
তার পেছনে অন্ধকার দাঁড়িয়ে থাকে
আমি গান লিখি বলে
এখন আমাদের খুব কাছাকাছি আসা প্রয়োজন
বিকেল নিয়ে দু’একটা লাইন লিখে ফেলে কেউ কেউ

হাঁটতে হাঁটতে তারপর কত গান হয়ে যাই


২।
মেয়েদের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না
চিঠির বদলে বন্ধুরা হাত ধরে হাঁটা দিল
তুমি হাঁপিয়ে উঠছ
প্রেমিক নামে বাগানের ভেতর

স্মৃতি নিয়ে লিখতে বসে তাই
সামান্য রোদ পড়ছে জানালায়


(ছবিঃ রোডলফো সামোন্তে) 

হিমেল মাসের কবিতা ১৯




হৈমন্তী
       -পুরঞ্জয় তন্তুবায়


তোমার চোখেই বাঁধ ভেঙেছে রাত
নিরুদ্দেশে ঠিকানা যায় ভেসে,
পালকি ভেঙে আঁধারে ঝঞ্ঝাট
জড়ায় তোমায়।পুরণো অভ্যেসে।

তোমার মনেই সেতুর সুতো জানি
অনেকটা পথ গড়েছে একপলে।
বিভেদী প্রেম,সাজানো ফরমানি
দূরত্বকে ছোঁয়ার কথা বলে।

তোমার শরীর বাদল বিভোর বেলায়
একাকীত্বের আকাশ মাপা জল,
সেতুর পরেই বন্যা অবহেলায়
বানভাসি মন।আবছায়া অঞ্চল।

প্রতিচ্ছবি। আয়না-হৃদয়।স্মৃতির
রাত বলেছে আর যাব না ভেসে।
জাগ্রত মন শিশিরে অস্থির
এক পা দু'পা। তোমারই উদ্দেশে।

কিন্তু তাতে ঢেউ ছিল কি আদৌ?
বাতাসে যার হৃদয় গোণা হয়!
আয়না-হৃদয়, প্রতিচ্ছায় আস্বাদও
নিমজ্জিত নদীর মতো নয়।

তবুও তোমার চোখেই যেন ধরা
একমুঠো রাত।তন্বী শতদল।
সেতুর এপার দাঁড়িয়ে মুহূর্তরা
আর ওই পারে আয়না ভাঙা জল।

(ছবিঃ গ্লেন বাওতিস্তা) 

হিমেল মাসের কবিতা ১৮




বিক্ষিপ্ত
          -কৃপা বসু 

১.
ঈশ্বর ভেবে পাথরের বুকে পুঁতে দিই তুলোর চারা।

আদরের নখে কেটে যায় ঘাসের শরীর।

পিলসুজে গেঁথে রাখি ব্যথার মলম,
ছাই দিয়ে মেজে ফেলি দাঁতের গোড়া।

২.
অনেকখানি নিঃস্ব হলে কবিতারা
চুঁইয়ে পড়ে ব্রহ্মহস্ত থেকে ধুলোর কাগজে,
কুলোর শরীর বেয়ে নেমে আসা চালের মতো।

নিষ্কাম বালিশ জেগে থাকে ঘিলুর ভেতর।
ছাদের তারে মেলা বিধবা থান
স্নেহ-উলে ঢেউ বুনে চলে তবুও।

সাদা পাউডার ভেবে মেখে ফেলি
ফরমালডিহাইডের গুঁড়ো,
কাঁটা বেছে হাওয়ায় ভাসে তোমার আমার গোলাপকোঠা।

৩.
ময়ূরের মুরালির তালে ময়ূরীর বুক
থেকে খসে পড়ে জলের লেহাজ।

জিভের নীড়ে গজায় প্রেমের শিকড়।
ফুলেল দোলনার পাশে নুয়ে থাকে শিশিরের ঘ্রাণ।

জামরুল বন পেরিয়ে যায় আলোর সাম্পান,
সাপের পোশাকে জেগে থাকে শীতের রোয়াব।

(ছবিঃ পিটার দানিৎসিন)