Sunday, 16 December 2018

মৃগশিরার মাসের কবিতা ৪




ব্যবধান
        -দেবারতি চক্রবর্তী



আমাদের দূরত্বগুলো

প্রজাপতি না পেয়ে ম্লান হয়ে গেছে

নাম না জানা অস্থির অঞ্চলে

এপার ওপার বেনামি চিঠি

তখনও রাত মেঘলা আকাশ চাঁদ ওঠেনি

ডাকঘর

বন্ধ।

(ছবিঃ প্রাক-এলামাইট শিলালেখ, সৌজন্যঃ আলোর মিছিল আন্তর্জাল) 

মৃগশিরার মাসের কবিতা ৩

Related image

হেমন্তের ডাহুক 
                  -শিবু মণ্ডল 


রাতের ঢাকনা খুলে বেরিয়ে আসা ডাহুক
তার আর কী আছে?
অক্ষর ধবনি, মুছে যাওয়া সঙ্গমরীতি
আরমাফলারে ঢাকা শীতসুখ

ঘুম ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা শমন
তার আর কী আছে?
বন্ধ হয়ে থাকা ঘড়ি, তার থেকে বেরিয়ে যাওয়া গান
আর জলহীন নল খুললেই অনন্ত ভ্রমণ !

কার্ত্তিক খুলে বেরিয়ে আসা তারামণ্ডলের মধ্য দিয়েই
একফোঁটা জল হেঁটে যায় শিশিরের পথে
ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে দীপাবলি আলো
বটগাছের বেদীতল থেকে শুরু হওয়া নগরকীর্তন
ভাঙা ঋতু হাতবদল করে নেয় অবস্থানটুকু

( ছবিঃ ব্রাহ্মী শিলালিপি, সৌজন্যঃ ওয়েবদুনিয়া )

মৃগশিরার মাসের কবিতা ২

Image result for kharosthi lipi

এক টুনটুনি কবিতা
                          -জ্যোতির্ময় বিশ্বাস


একটা সাদা কাগজের-ফুল
দুলের মত
দুপুর নির্ভার ক’রে ঝুলে থাকছে

এখন খুব খুকুভাব মনে
এখন কেন কথা বলতে চাও; অবেলায়।

                                          




(ছবিঃ ব্রাহ্মী শিলালিপি, সৌজন্যঃ রিভোলভি)



মৃগশিরার মাসের কবিতা ১


Related image

হে বেওয়ারিশ
                 -জ্যোতির্ময় মুখার্জি

#
এইসব চাঁদমারি রাতে
মারিব মরিব। দুজনেই ভিনদেশি

ঢুকে পড়ছে খোলা জিভ। বেইমান
ওরাও মাদল হতে জানে


ওপারে যাবার ছলে ঠোঁটগুলো সব চুমু হয়ে গেল


#
ঢেউ দিয়েছে নদী
ক্ষমা করো। ক্ষমা করো। হে বেওয়ারিশ
এলোমেলো। স্তন খোলো। পালক রেখো না


#
তোমারো কি মনে হয়?
প্রতিটা দরজাই আদতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশ্বর?

আদতে ভাসমান। বাড়ন্ত হা


ক্ষতটুকু মুছে নিলে
মাপজোক। কায়া-ছায়া। বেঢপ আয়না

( ছবিঃ হায়ারোগ্লিফিক লিপি, সৌজন্যঃ পিন্টারেস্ট ) 

মৃগশিরার মাসের অনুবাদ কবিতাঃ আইসল্যন্ড থেকে গের্ডার ক্রিস্টনি

Related image


উত্তর

স্পার্ম তিমির মত ধীর
আমরা ভাসছি বিষন্নতার ভেতর দিয়ে
যেটা শাদা
এখানে ঊষর প্রান্তরের উপরে

এটা নিজেকেই ধরে রেখেছে
শুধুমাত্র
এক অলখ নিক্ষেপে

এক মুহুর্তের জন্য তারা ঝলকানি দিচ্ছে
পথের ধারে
যেন ছোট্ট কিশোরীর দেশলাই
রূপকথার ভেতর
আমাদের আলোকিত করছে 
যতক্ষণ না আমরা ফিরে আসি 
এই বরফের গর্তে
একটু শ্বাস নেওয়ার জন্য 

( সুদূর মেরুবৃত্তের দেশ আইসল্যন্ডের নব্বই দশকের কবি গের্ডার ক্রিস্টনি। ১৯৭০ সালের ১০ জুন রেইকজাভিক শহরে তাঁর জন্ম। কবিতা, গল্প, নাটক -সব মিলিয়ে এযাবৎ কুড়িটি বই প্রকাশিত হয়েছে গের্ডারের। বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর কবিতা। ভিক্টোরিয়া ক্রিব কৃত ইংরেজি অনুবাদের মধ্যস্থতায় কবির "NORÐUR" কবিতাটির অনুবাদ করলেন উষ্ণিকের সম্পাদক )

(   ছবিঃ Bókadeildin)

মৃগশিরার মাসের কবিতা

এই মাস মৃগশিরা নক্ষত্রের মাস। পুবের আকাশে ভাসছে কালপুরুষের আলো। প্রথম শস্যের গন্ধে উজ্জ্বল হচ্ছে ভোরের শুকতারা। কুয়াশার আবছা চাদর সরিয়ে এই গাঢ় সময়ে বাউলরঙা আলোয় কবিতা লিখলেন পিয়াল রায়, নীলাব্জ চক্রবর্তী, পিয়ালী বসু ঘোষ, প্রদীপ চক্রবর্তী, তন্ময় ধর, জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী, জ্যোতির্ময় মুখার্জী, হাসান রোবায়েত, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, শিবু মন্ডল, দেবারতি চক্রবর্তী, হিয়া, জ্যোতির্ময় বিশ্বাস, সুকল্প দত্ত, সুপর্ণা মন্ডল এবং শুভঙ্কর পাল। সুদূর মেরুবৃত্তের তুষাররাজ্য আইসল্যন্ড থেকে নব্বই দশকের কবি গের্ডার ক্রিস্টনি রইলেন অনুবাদে। 
                             
Related image




Wednesday, 28 November 2018

আকাশপ্রদীপের অনুবাদ কবিতাঃ বুলগেরিয়া থেকে একাতেরিনা কারাবাশেভা

Related image

এই হল সেটা
     
যেটা আমরা বর্ণনা করতে পারি না-
এটা টাইল-ঢাকা ছাদে অলস বৃষ্টির মতো
ফুলে ওঠা রাতে একটি প্রাণিত শিখার মতো
কাব্যময় এক বাতাসের মতো, আবৃত্তি চলছেই
ইন্দ্রধনুর এক ঝলকের মতো, এই জগতের এক প্রান্ত থেকে অন্য জগতে

এতটাই সহজ এবং এতটাই জটিল।
আকাশে তারাগুলোর মতো জ্বলন্ত,
ঝড়ের ভেতর চঞ্চল বিদ্যুৎশিখার মতো
পাহাড়ের শীর্ষে একটি পরিচিত ফুলের মতো
সূর্যাস্তকালীন সৈকতে একমুঠো অপরিচিত বালির মতো।

এতটাই পরিষ্কার এবং এতটাই অস্পষ্ট।
তোমার বুকপকেটের লেডিবার্ডের মতো,
স্বচ্ছ সমুদ্রের গুঞ্জনরত তরঙ্গের মতো,
অন্ধকার বনের মধ্যে তোমার স্মৃতির প্রতিধ্বনির মতো
যেন পৌরাণিক কাহিনী, তুমিই যেন বৃক্ষকথিত মৌনতা।

এতটাই চমৎকার এবং এতটাই বাস্তব।
সূর্যের গোপন আঁখিপাতের মতো
চাঁদের আয়ুর সাথে তোমার কথোপকথনের মতো,
দুধ-ছায়াপথ থেকে একমুঠো নক্ষত্রের স্বপ্নের মতো,
ঠিক ওই নক্ষত্রগুলোকে তুমি যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছো।
এইই হল।
প্রকৃতি।

( বুলগেরিয়ার সোফিয়া শহরে একাতেরিনা কারাবাশেভার জন্ম ১৯৮৯ সালের ১৯ অগস্ট। শৈশব থেকেই বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং খ্যাতির পাশাপাশি নিজের কবিতার উৎকর্ষকে এক অনন্য মানে নিয়ে গিয়েছেন একাতেরিনা। ইংরেজি-জার্মান-রুশিয়ান-রোমানিয়ান সহ অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর কবিতা। 'কাসেলোদুইনোপোয়েসিয়া'র ওয়েবপাতার ইংরেজি অনুবাদের মধ্যস্থতায় বঙ্গানুবাদ করলেন উষ্ণিকের সম্পাদক)