Wednesday, 28 November 2018

আকাশপ্রদীপের মাসের কবিতা ৮


Image result for fog bridge photography by dave allen

স্রোত
               -পাপড়ি গুহ নিয়োগী


--এভাবে যেও না পাপড়ি

 তুমি স্রোতের বিপরীতে হাঁটছো আরো সাবধানে!

 হাতটা দাও ? হঠাৎ মরা নদী জেগে উঠছে

--আরে, আমি নদী বলতে বুঝি ভালবাসা

--সাবধানে, চোরাবালি আছে, কথা শোনো...

--উফ, নদী জানে আমার আর ওর খুনসুটির কথা প্লিজ, একটু নিজের মত

   পায়ে পায়ে জল খেলতে দাও

--এতো বছরের বন্ধু, তবু তুমি বারণ শোন না।

   এবার বুঝবে ….

(ছবিঃ ডেভ অ্যালেন)

আকাশপ্রদীপের মাসের কবিতা ৯

Image result for fog tree photography by


কজ ওয়ে
                   -অ নু স ঞ্জ না ঘো ষ 

লিলিথ জানেই না কখন ভোর পাখি হয়ে উঠলো। আজানের সকাল যেন একমুঠো শিউলি। টুপ টাপ শ্রাবণ আর ভিজে যাওয়া পায়রার গান। সবটাই তুমি। ঢেউ এর ওপর ঢেউ তুলছে নদী। আমরা  অপেক্ষা করছি একটা বড় ঢেউ এসে আমাদের ভিজিয়ে দিয়ে যাবে। একটাও পাল তোলা নেই। বাতাসের কাজ এখন জলের সঙ্গে লুকোচুরি। বহুদূর পার করে শিকড় ছুঁয়েছে নদী। কে যেন বলেছিল বসন্ত আসবেনা একটাও। সেই থেকে শুরু হল পাতা ঝরার মরসুম, রং মাখা আগুন। প্রতিটা ঋতুই ফাগুনে মিশে গেল। এই বর্ষাতেও ভিজেছি পাশাপাশি কখনো ইউটার্ণে কখনো শুনশান গাছেদের ভিরে।

আমি 'তুমি' লিখে রাখি আমার সবটা অন্ধকার জুড়ে...




(ছবিঃ পিয়ের পেলেগ্রিনি)









আকাশপ্রদীপের মাসের কবিতা ১০

Image result for river fog

সমান্তরাল 
             -উমা মন্ডল

রক্ত  চোষা  বাদুরের  ডানার  ওপর
দেহটি  ঘুমিয়ে , সাদা  পোশাকের  মতো
রং  তুলে  নিয়ে  গেছে  বিধাতা  লেখনী ,
বৈধব্য  তারায়  গিলে  খায়  আকাশের  নীল  মেঘ।

কালবৈশাখীর অভিশাপ ?  তুলে  নেবে ঠোঁট  দিয়ে
কমন্ডুল  থেকে  ছুঁড়ে  দিয়েছিলো  আর্য,
ভাত  ছড়ানোর  মতো  করে  ;
খুঁটে  খেয়ে  নেয়  অনার্যের  পক্ষী-মাতা
সেই  থেকে  পিঠে  বয়  সিসিফাস -জ্বর, বৈশাখীর  কালাশৌচ ।

অ্যানিমিয়া  জীবাণুর  ঘর  ভালোবাসে
কালি  দিয়ে  দাগ  কাটে  সাদা  ক্ষেতে ,
বৈধব্য -পাতায় ।
জলা-শোক  খরা  দুঃখ  তৈরি  করে  কুমোরের
চাকা  দিয়ে , দেবী  জল  পাবে  না  ধর্মে  সইবে
কলসি  কাঁখে  সাদা  কাপড়ের  পুঁটলির পোড়াখই  ;

কন্যা  জল  তুলে  দেয়  দেবী-মুখে , পুরোহিত  ধর্ম
ভাসায়  গঙ্গার  সাদা  জলে .........

(ছবিঃ অ্যান্ড্রিউ উয়েইথ) 

আকাশপ্রদীপের মাসের কবিতা ১১

 Image result for fog tree photography by


তিতলি সভ্যতার কথা 
                            -রঙ্গন রায়

তিতলি একটি নদীর নাম। নদী একটি সভ্যতার নাম। আর একথাটা তো সবাই জানে যে সভ্যতার সৃষ্টি হয় নারী থেকে। অতএব এটা বলাই যায় যে তিতলি নদীর ধারে নদী নামে একটি সভ্যতা ছিল। তাতে বসবাস কারী প্রত্যেক নারীর নাম তিতলি। যেহেতু নদী একটি তিতলিমাতৃক সভ্যতা তাই সকল পুরুষ সেখানে প্রেমিক ছিল। প্রতিবছর তিতলির হাসিতে নদীর জমি উর্বর হত। চাষবাস ও ফলন  ভালো হত খুব। 
কিন্তু তিতলিরাও বৃদ্ধা হয়। তিতলির স্রোত হঠাৎ করে যেন হারিয়ে গেলো দূর বনতলে কোনো মরুভূমির ভেতর। প্রেমিকা না থাকলে প্রতিটি পুরুষের গভীর অসুখ হয়। নদী সভ্যতা যাযাবর হয়ে যায়। কত অজানাকে খুঁজে দেখার নেশায় তারা বেরিয়ে পরে পথে। হাঁটার সময় যত নদীই তারা দেখে সবার নাম দিয়ে বেরায় তিতলি। গোটা পৃথিবীর যতটা তারা হেঁটেছিলো সেসবই তিতলি সভ্যতা নামে পরিচিত হয়।
আর সেদিন থেকেই আজও প্রকৃত পুরুষেরা তিতলিকে খুঁজে বেরায়। তিতলি সমগ্র সভ্যতার নাম হলেও সেই যে তিতলি হারিয়ে গেছিলো প্রাগৈতিহাসিক যুগে , সেটা কে খুঁজে বের করবে? 
সন্ধান জারি আছে। সন্ধান সর্বদা জারি থাকে। আর তাই প্রতিটি পুরুষ এখনো প্রেমিক হয়ে উঠতে চায়। আর প্রতিটি নারী , তিতলি। 

(ছবিঃকীথ ডটসন)

Wednesday, 10 October 2018

উষ্ণিকঃ কাশফুল সংখ্যা

Image result for kashful in shadow bw

উষ্ণিক 
কাশফুল সংখ্যা 

কাশফুল ছোঁয়া ভরা পৃথিবীর বাতাসে শরতের আলোকমঞ্জীর
 পুজোর আলো-মাখা কবিতারা ছুঁয়ে ফেলুক দূর আকাশের ছায়াপথ

কাশফুলের মাসের কবিতা ১

Related image

নিরালায়
               -অভিশ্রুতি রায়

কতটা চলার পর
তুমি আসো?
আরও কতটায়
 তুমি আঁধার হয়ে যাও?
এই বাঁশিতে ফুঁ এর জোর ফুরিয়ে এলে
আমি বাঁশ হয়ে পরে থাকি
একহাত মাপা
শীর্ণ...
যে বিন্দু আমার আঙুল ধারণ করেছে
তাতেই জোর খাটিয়েছি চিরকাল
এই ঠোঁটে নরম তোমার হেঁটে চলার শব্দগুলো
এখন নিঃশব্দে আমার স্বরলিপি হয়ে আছে

( ছবিঃ অ্যালেক্স চার্নি) 

কাশফুলের মাসের কবিতা ২

Related image

স্বভাবচরিত্র
             - নীলাব্জ চক্রবর্তী



সে এক গানরঙ
জানলা বলতে বলতে ফেলে যাওয়া আঙুলের দিন
মাংসের সহজ ভেতরে চলে যাচ্ছে
আমাদের ভাঁজ করা বিকেল
মোনোলগ
মানে
নিয়ন্ত্রিত সব কাঁচ
আর বাতাসে ফুলে ওঠা স্নায়ু ও যোজনা
জলের মতো মানুষ দেখতে দেখতে
দরজা একটা দৃশ্য খুলে যাওয়া
সিনট্যাক্স খুলে যাওয়া
ছবিতে ছবি মিলছে না এখন আর
তবু
টার্নিং রেডিয়াস বরাবর
এঁকে বেঁকে
যেভাবে চরিত্ররা
স্বভাব থেকে দূরে চলে গেল...

(ছবিঃ গ্যারী হার্ট)