Tuesday, 15 May 2018

বৈশাখের কবিতা ৭

Image result for fire painting

বিন্দু ও বিসর্গ  
          -প্রদীপ চক্রবর্তী


বিন্দুর মতো বিসর্গের বাড়ি
বিন্দুর মতো শরীর বিসর্গের
বিন্দু পালা গেয়ে গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরছে
জগৎপুরের হাটে দুটো শিঙাড়া খেতে গিয়ে
প্রায় ধরা পড়ার অবস্থায় বিসর্গ বিষম খেলো |

বিন্দুর দৌড়োতে দৌড়োতে সর্বাঙ্গে জমেছে ঘাম
বৃষ্টিভেজা গরমের রাতে
আলো না - নেভানো এক বাড়ি থেকে
জনশূন্য পথে ভেসে আসে উড়ো কথার মতো বিসর্গ ...

বিন্দুর একটাই তো জীবন ...!
প্রতি - নিয়ত বিসর্গ একা হতে থাকে ,
বিন্যাসে ক্রমজায়মান বিন্দু যেন সুযোগের ব্যবহার ,
বিন্দু বৃত্তরেখা | স্পন্দনের নিদ্রাবিষ্ট অচল
স্বীকৃতি ...

অল্প খেয়ে অল্প বেঁচে নিস্তেজ দৃশ্য বোনার ভেতর
যতটা বোঝেন বিন্দু ,
 আর তার সদৃশ চেতনা ,
বিসর্গ কি বোঝে সব ,
                বিসর্গের মতো কেউ বোঝে ?

( ছবিঃ অ্যান্ড্রিয়া অ্যালেগ্রোন )

বৈশাখের কবিতা ৬

Image result for abstract flame painting

তুলসী ও রজনীগন্ধা ৩৩
                       -অভ্রদীপ গোস্বামী 

বৃষ্টিকেই প্রাথমিক শর্ত ভেবেছি এতদিন
প্রেমের প্রখরেরও
যেমন ভেবেছি কবিতার ছন্দগত টানাপোড়েন
দুর্নিবার ভীরু হৃদয়ের কাছে

সমস্ত শব্দের যন্ত্র বিকল ও যন্ত্রনাদায়ক হয়ে
                                                               উঠলে
বৃষ্টি নামে আলগোছে তোমার আঁচলে
ভেজানো মুখের কথা নয়
তবু নামে ছন্দগত মিলে ও বিন্যাসে

সমস্ত প্রদাহ যখন মাত্রাতিরিক্ত
সহ্য ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে
তখন বৃষ্টি নামে ক্ষমতায় দুহাত বুলিয়ে

বৃষ্টিপাতের শব্দ প্রাথমিক জেনেছি এতদিন
শর্তহীন ভাবেই যেমন জেনেছি রাধার অভিসার
এখন প্রতিটি ছন্দ পতনের আগে
মেপে নিচ্ছি জলবিভাজিকা। অভিসারের সংজ্ঞা।



( ছবিঃ সের্গ উইয়াডার্নি ) 

বৈশাখের কবিতা ৫

Image result for abstract flame painting

বিবর
         -পিয়াল রায়

লিখতে পারছি না আর
আমার কলম বিন্দু বিন্দু রক্তে
সাজিয়ে তুলছে কাগজ
তাদের না আছে ভুত না আছে ভবিষ্যৎ

শোনো, তুমি কি একবার
ঘাসের শিকড় সরিয়ে দেখবে
কোনো চিঠি এলো কি না?
যা আমাকে রেবেকা নামের শিশুটি
পাঠিয়েছিল গত গ্রীষ্মে

ওদের ওখানে জল নেই
ওদের ওখানে হাঁসও নেই তাই
অথচ রেবেকা হাঁসের জন্য জমিয়েছে
ঈষৎ রঙা কয়েকশো নূপুর

 জানালায়
আপেলের ক্লান্ত ছায়া সরে এলো
শাখা থেকে ঝরে গেলো সূর্যাস্ত শিখর

আমাকে তার ঠিকানা দাও
সে পথে আমি পাঠিয়ে দিই
আমার বোধশূন্য বেহাগ




( ছবিঃ পিয়া স্নেইডার )

বৈশাখের কবিতা ৪

Image result for abstract fire painting

জন্মদাগ
         -শিবু মণ্ডল 

গাছেরা ডালপাতা হয়ে বাড়তে থাকে
সময় কুঠারের ধার নিয়ে চমকায়

কাট্‌ ! কাট্‌ ! আঘাতের সুমধুর কাট্‌

শুকিয়ে যাওয়া সময় আগুনের দিকে তাকিয়ে
বৃক্ষ আর বাতাস ভস্মের দিকে ধেয়ে যায়
মাটির গভীরে শেকড়ের করুণ আর্তনাদ

তবুও রক্তবীজ সবুজ, তবুও রক্তবীজ অঙ্কুরিত

আমরা সেই বৃক্ষের সাথে সময়ের জ্যামিতিক সম্পর্ক
খুঁজতে গিয়ে আসবাবের রূপ দিই ,মাত্রা বেঁধে দিই

তারপরও একটা গাছ যত না  আঘাতের কথা বলে
অনেক অনেক বেশি  সময়ের জন্মদাগ বয়ে চলে


(ছবিঃ এরিক সীবেন্থাল ) 

বৈশাখের কবিতা ৩

Image result for abstract fire painting

সম্পর্ক
       - সুমন সাধু

কিছু বাঁচার তাগিদের মধ্যেই পাশ ফিরে শোওয়া
শোওয়াটির পাশে ঘুম
ঘুমের কোটরে চোখে চোখে কথা

আমাদের বিছানাগুলো ক্রমশ ছোট হয়
আরও গুটিয়ে যায়
তারপর স্বপ্ন, দেখা, উড়ান

প্রতিদিন ভাবি সূর্য দেখব
কিন্তু পাশ ফিরে আলতো ঘুম ভাঙিয়ে দ্যায় না কেউ।
চলো, দু'জনে রোজ একটু একটু
চোখের মাথা খাই।




(ছবিঃ রোনাল ব্রিউয়াল্ট) 

বৈশাখের কবিতা ২

Image result for abstract fire painting


দুটি কবিতা
              -সুপর্ণা মণ্ডল



মা ক্রিকেটের খবর শোনায় আমাকে
কে ক’টা ছয় মারল, কে আউট হল শূন্য রানে
হল তো হল, তাতে কার কি যায় আসে আমি বুঝি না
কথা বলার কোন বিষয় না থাকলে
মা ক্রিকেটের কথা বলে
তাতে জনহীন এই বাড়িতে দু’ একটা কথোপকথন জন্ম নেয়।



দেখো এই দু’মহলা বাড়িতে এখন কেউ নেই
চার থেকে আবার দুই হয়েছ তোমরা
তোমরাও চলে যাও চাকরিতে
বাড়িটা ফাঁকা পড়ে থাকে
ফাঁকার মধ্যেই যে বাড়িটা গড়েছিলে...




(ছবিঃ আইরিনা ৎজুকোউস্কি) 

বৈশাখের কবিতা ১

Image result for abstract fire painting

১৪২৮, বসন্ত
            -নীলাদ্রি বাগচী


ক।।

আজ আবার করতলে রঙীন বাতাস

আজ দেবীর দূর্লভ হাসি চাঁদে রাতে
ঘোর অব্দি নিয়ে গিয়ে আছড়ে ফেলেছে

আজ দোল... হন্তারক পরাভৃত জানে
আজ দিন
নষ্ট হয় পাতার চাবুকে....
আড়ালে বা আবডালে সামান্য শিসে.....

খ।।

জ্যোৎস্না বিন্যাসে একা
শূন্য চাঁদ উঠে আসছে মাথার ওপরে...
পায়ের তলায় সাদা শ্লেট
প্রথম অক্ষর শিখছে আগাছার ঝাড়
আঁক শিখছে বিলিতি বাগান

আমিও অক্ষর চিনছি
নেমে আসা কটু রক্ত স্রোতে....
জ্যোৎস্না গন্ধ ম ম করছে, ভিজে যাচ্ছি
হত্যাকারী চাঁদজাত উল্লাস অভিধা ছুঁয়ে ছুঁয়ে....

গ।।

অবেলা ফিরেছে বারবার

রান্নাঘরে, খাবার টেবিলে..
এলোমেলো কাগজ বাতাসে...
জলের গেলাসে, জাগে, শিয়রে ওষুধে. ..
স্নান ঘরে চুলের মায়ায়....

ফিরেছে বারম্বার
গোছানোর দিনে আরো অগোছালো সম্ভবনা নিয়ে....

( ছবিঃ শ্যারন কামিং )