Tuesday, 11 July 2017

শ্রবণা নক্ষত্রের মাসের কবিতা ৫

Related image

গাছ
    -হাসান রোবায়েত

মানুষের মুখের দিকে তাকালে তোমারও মনে হয়
আত্মহত্যার পাশে
ছাতিমের নিজস্ব কোনো বন নেই—

গাছের নিবেদন-কালে
কে আর ছায়াকে ভেবে নেয় সন্তান!

হিংসার মর্মঘেঁষে প্রতিদিন কিছু পাতা ঝরে যায়


ছবিঃ অ্যান্ড্রিয়া প্রামুক

শ্রবণা নক্ষত্রের মাসের কবিতা ৪

Related image

আবেশ
        -অভিশ্রুতি রায়

 ঘাম দিয়ে গলে পড়ছে সময়
কপাল থেকে গাল, গাল থেকে ঠোঁট.....
 এই সড়ক জুড়ে কত ভাঙা মেঘের শ্রাবণ নেমেছে।
কানটা মিছিমিছি ভিজে ওঠা পদ্য গুলোকে লুকিয়ে রাখতো।
দুটো ঠোঁটের মাঝে কখনো বসন্ত গড়ে উঠলেও,
শুকনো বালিতে উটের ভার  বড্ড অসহ্য হয়ে ওঠে।
শীত কাতুরে পিঁপড়ে গুলো এক আঙুল জায়গা মেপে নিচ্ছে অলক্ষ্যে গড়ে ওঠা উদ্দেশ্য-বিধেয়হীন স্তবকটিতে।
পড়ে আছে কেবল দু-চারটে ভাঙা রোম কুপের গল্প।
 যারা শুধু বিন্দু বিন্দু জল মেখে দিচ্ছে শরীরের উত্তরায়ণ জুড়ে।।

ছবিঃ অ্যালিসন জনসন 

শ্রবণা নক্ষত্রের মাসের কবিতা ৩

Image result for abstract painting

আষাঢ়, দমদম
                   -নীলাদ্রি বাগচী

১. ছাতাটা আস্তে আস্তে বন্ধ হচ্ছে আর রৌদ্র চড়ে যাচ্ছে দ্রুত। আসলে নতুন ছাতা ফলে ঠিক বাগেও আসে নি। রৌদ্র কিন্তু সাধারণ নিয়মে দখল করেছে চারপাশ। ভুলের অধিক ভুল ছাতার বিকল্প কিছু কখনো ভাবিনি। এখন দহন নিচ্ছি। স্নায়ুযুদ্ধ। মায়াবন বিহারিনী সঙ্কেতে নিরূপণ করে যাচ্ছি রোদের অধিক ক্রোধে। রৌদ্রজাত সুনিশ্চিত অসুস্থতার পটভূমি...

২. কড়িবরগার ছাদ অনেক উঁচুর থেকে নিরীক্ষণ করে যায় এইসব ঘুম। এইসব স্বপ্ন, রোদ, অযোগ্য উপাখ্যান পার করে হেলে যাওয়া ঈশ্বরের অনিচ্ছুক ছবি। সে দেখে রক্তপাত, চোট আঘাত, ক্ষতের লাবণ্য মেনে জমে ওঠা থকথকে পুঁজ এঘর ওঘর করে। লালা ওগড়ানো দিন দুপুরের ওইপারে চেতনের ঊর্ধ্বে ওঠে মূর্খ সাম্রাজ্য সুখ পায়। হাঁটু ভেঙে মিশে যায় সিঁড়ির অতলে.....

এরপর বৃষ্টি আসে হন্যমান মেধাকে যত্নে সরিয়ে দিয়ে দূরে...

৩. চিন্তা জড়িয়ে যায় কেননা দেয়াল হেলে আসে। কাঁঠালিচাঁপার গন্ধ অপরিচিতর চেয়ে অল্প বেশী পরিচিত। পক্ষপাত এ অবধি। চিন্তা তার অধিক বোঝে না।

সে বোঝে মরূর দেশে দূরবর্তী পাহাড়িয়া স্মৃতি ক্রমে ঝাপসা হয়ে যায়। বৃষ্টিহীন চরাচরে অনবরতর চাপে সুস্থিতি আসেনা কখনো। মেধা ক্ষয় হয, মেধা আয়ুর সীমিতে এসে ঠেকে...

দূরে হিন্দি গান বাজে.. সৃষ্টি স্থিতি তর্ক করে ... নিরূপণ অনির্দিষ্ট.. সঙ্কেত কটাক্ষ প্রমাণ...

৪. ভেঙে ফেলতে চাইলে আয়না বা সম্পর্ক এগুলো সহজে মনে আসে। এতবড় আমি এতটুকু আয়নায় সম্পূর্ণ এঁটে যাই বলে আমি সম্পর্ককে দেখি। দেখি বৃষ্টি ছাঁটে জানালা খানিক ভিজে গেছে। ভেজা গন্ধে বাতাস এঘর ওঘর পাক দিচ্ছে।

না পাওয়া কবিতার মতো দিন ফুরিয়ে চলেছে ক্যালেন্ডারে গুরুত্ব না দিয়ে...




ছবি ঃ গুলরেজ আলি


শ্রবণা নক্ষত্রের মাসের কবিতা ২

Image result for abstract painting


অ্যাসপিরিন
               -রঙ্গন রায়


যেন একটা জ্যান্ত পাখিমৃত্যু মুখের ভেতর
ডানা ঝাপটাচ্ছে
বুকের বোতাম খুলে বেড়িয়ে যাচ্ছে
পালক পালক জীবন ...
ভীষণ হাল্কা হয়ে যাওয়া এই রাস্তা
কৃষ্ণচূড়ার পরেই অ্যাসাইলাম -
উৎসব আর মাথাব্যাথা  সমান্তরাল
গরাদের ফাঁকফোকর দিয়ে -


মোজা ফেলে রেখে ছুটছি
অলৌকিক হাতঘড়ি গুলো খুলে রাখা
আর এই অত্যাশ্চর্য কুয়াশাবাগান
জেলির মার্মালেড বেছে বেছে
হাঁফিয়ে উঠছে রুমাল
প্রতিটি বারান্দায় উলের চাদর
                              পেরোলেই ঐশ্বরিক টুপি


ছবিঃ সিমোন কেনী

শ্রবণা নক্ষত্রের মাসের কবিতা ১

Image result for abstract painting

কীভাবে বিন্দুর সীমানা থেকে ফিরে আসতে হয় জানা নেই
                                                                  -পূজা নন্দী



কিছু গন্তব্য তোমার থেকে শুরু হয়
সব গন্তব্য তুমি নও
ঠিক যেমন বাঁকের পর বাঁক আসে সশব্দে
আর শহর জুড়ে কেবল গল্প লেখা বদলের


এবার বেশক উঠে পড়া সকাল হতে পারো
কখনও এক বিকেল থেকে অন্য বিকেল  যেভাবে গন্তব্য হতে পারে...






ছবিঃ মার্তা জাওয়াদস্কা

Thursday, 15 June 2017

মেঘদূতের মাসঃ অনুবাদ কবিতা

Image result for abstract rain photo

(কৃষ্ণসাগরের তীরের দেশ বুলগেরিয়ায় ১৯৮১ সালে জন্ম ইভাঙ্কা মোজিলস্কার। তাঁর প্রথাগত পড়াশোনা চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে। নিয়মিত কবিতাচর্চায় ২০০৪ সাল থেকে এযাবৎ তাঁর তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি এবং তাঁর ইংরেজি অনুবাদক অ্যাঞ্জেলা রোডেলের সহায়তায় কবিতাগুলির বঙ্গানুবাদ করা হল)  

Image result for ivanka mogilska

ইভাঙ্কা মোজিলস্কা 

সে দিনটি জলে মিশে যায়

সে দিনটি জলে মিশে যায় 
এক গ্লাস জলের মধ্যে সামান্য ভিটামিনের মতো
যা কেউ ভুল করে টেবিলে রেখে গিয়েছে 

এটা থেকে বুদবুদ ওঠে 
শান্তভাবে গার্গল করে
কাছাকাছি কেউ নেই যে
তার ক্ষুদ্র অভিযোগ শুনবে
তাই সে চুপ 
বুদবুদ ঘোরে-ফেরে
সামান্য নীচে অধঃক্ষেপ জমা হয়

সন্ধ্যায়, গৃহস্থেরা ফিরে আসে 
আর ঠান্ডা জলটুকু ছুঁড়ে ফেলে দেয় ড্রেনে।


সেলাইছেঁড়া একটি আকাশ চায় ও

ও সেলাইছেঁড়া একটি আকাশ চায়
সেলাইছেঁড়া একটি আকাশ চায় ও
যার প্রান্তগুলোও ফেটে উঠেছে
সেই ফাঁকা দিয়ে যাতে 
ও লাফ দিতে পারে
এবং একটি সুতো ধরে
সবকিছু সামাল দিয়ে 
উঠে যেতে পারে 
শীর্ষে

ভাবো ডার্লিং

ভাবো ডার্লিং
একটু বেশী করে ভাবো
আমাদের বয়স হচ্ছে
কুঁচকে যাচ্ছি আমরা
ব্যবহৃত এক পেন্সিলের সীসের মতো
সময় আমাদের ঘাড়ে ঝুলে পড়ে
হ্যাঙারের মতো 
এবং ঝুলন্ত জামার মতো
আমাদের হাতাগুলো ঝাঁকাতে থাকে। 

(ছবিঃ শাটারস্টক এবং অ্যাকসেন্ট পাবলিশিং)



মেঘদূতের মাসের কবিতা ৯

Related image

শিলালিপি ১
       -তন্ময় ধর

তোমার ঠোঁট থেকে বায়োলজি পড়াতে এসেছে কেউ। আমি নিওলিথ ব্যস্ততার আলোয় তার নাম দেখি নি। লুচি ও মিষ্টান্নের সুস্বাদু অন্ধকারে তার চোখ অনেকক্ষণ আমার চোখের ভেতরে থাকে। এরপর সান্ধ্য হরিণীর ডাক থেকে উঁচুনীচু গন্ধ ভেসে আসে।
পৃথিবীর নিয়ম এর চেয়ে অনেক সহজ। হালকা হাসি মাঝপথে ভেঙে গেলে ঈশ্বরী হয়। রুমালের অহঙ্কারে আমিই বাকিটুকু মুছে দিয়ে আসি। ছায়াশস্যের ভিতরে একটু একটু করে তোমার আলো তৈরি হয়। গভীর রাত্রির ভাতে জড়ো হয় জন্মরহস্যের টুকটাক।
সে রঙ অগোছালো করে তুলছো তুমি। আশ্রয়ের সামান্য নীলচে লোভ থেকে ভেঙে যাচ্ছে লালাগ্রন্থি। পায়ের কাছে মৃত সন্তানের রঙ। দ্যাখো, তোমার হাতের নোনতা দাগটায় একটা ডাকনাম তৈরি হচ্ছে পাথরের ওপর। 

(ছবি: ফ্রেড রাদারফোর্ড )