Wednesday, 18 September 2013

আশ্বিনের কবিতা ৬



মন ত্র তন ত্র
-সব্যসাচী হাজরা

রমনা ও রুবীর উষ্ণতা স্বাভাবিকের থেকে দু ডিগ্রী বেশি
বাচ্চার নাম লুকিয়ে লুকিয়ে তং তড়াক তড়াং কি ট্রিং কি চমক কি লাফ কি লম্ফ কি ললনা?
কি বিসর্গে বাজে তোমার সর্বশূন্য শেষ স্তর , কাপের সাইজে , চায়ের আয়তনে
বিরক্তে চিত্ত হোক জন্মের প্রথম কান্না
   নাসিকা বর্ণে উন্মুখ প্রকৃ্তি দোষ , আমাদের যুদ্ধ নগরে সূর্য উঠুক
     আমাদের শান্তি নগরে ঘড়ি চলে না , শধু স্ট্রাইকার ওড়ে পরম সত্যের দিকে...


নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাসের মাঝে ইড়া , পিঙ্গলা , সুষুম্না জাগ্রত নিয়ে ভাসে
শুধু হাসপাতাল নয় বাড়ির প্রসব যোগ করো
          বুদ্ধর আলোর বুদ্ধ জ্বেলে দাও ব্যায়াম ও শরীর চর্চার ওপারে
             বাবার ৬৪ পাপড়িতে মেলে মায়ের ৩২
                 জেগে থাকে  চাল , গম , চিনির দোকানে
                     তন ও ত্র-এর লুকোচুরি ঘুরে মন ও ত্র-য়ে ফেরাও বরফ ও বাষ্পের সংজ্ঞা
                          তোমরা সংনমনে চটি খুলে এসো...

আশ্বিনের কবিতা ৫




প্রিয় জিম করবেট......
নীলাদ্রি বাগচী


ঘাস ডালপালা শুকনো কাঠের ওপর চাপান পাথর ।
সাতসয়ালি সোনা টিয়া  

পৃষ্ঠা উল্টে দেখছি ।

 পাহাড়ে সংজ্ঞায়িত আকাশ ।
আসছে যেন ইচ্ছা         মতো
এই কারুবিহনের হরিত পরিবেশ ।
ধুনি জ্বলেছিল কবে?
এই ছাই প্রমাণ করে কি আগুনে জড়ানো ছিল দাউদাউ?
হত্যাকারী পরিচিত
এও কি যথেষ্ট তৃপ্তি? অন্তত আগন্তুক ভয় সহজে ছোঁবে না
                                                                  এই স্থির?

বহু বছরের মধ্যে আজ রাতে
ঘুমুতে থাকা   
               বিড়াল ছানার বিশ্বাস 





গল্প ভেঙে উড়ে যাচ্ছে দিনমানকাকারের ডাকে অন্যমনস্ক পার হচ্ছি অবসর জীবন । কোনওখানে ভুল রাখা আছেকলমের চিন্তার যেন হাসি রাখা আছে অন্ধকার । শব্দহীন ফারাক বোঝাতে শুধু পুরুষ্টু যথেষ্ট কখন হয়? পরিত্রাণায় ভাবতে বসা সন্ধে রাতে ঝাঁকি রিক্সার আবডালে?

তীর্থশালার সামনে

সাপ । সাপেদের নড়াচড়া ।

ফণাহীন গোখরো এই অনুরোধ । শীতল রক্তের প্রাণী এই বিষ এড়াতে পারে না  



পরিত্যক্তা আস্তানায় শুরু হল ভোরের উড়ান

রাখালটি উবু হয়ে লক্ষ করছে পুলের বাঁ পাশে
যারা রয়ে গেছে অরক্ষিত         যাদের মৃতই বলবে ভবিষ্যৎ
                                                          শহীদ না
সাক্ষর বাতাস এই আঁকিবুঁকি
পরিমাপে
অনুষঙ্গ ভাগ করলে দিন কত ছোট       গতানুগত
হাতুড়ি এখানে নয়

এই টুকু এখন নিশ্চিত
মুখোমুখি সদ্যদিন      হাল্কা ছাপ

ফিমার বোনের কাছে বিঁধে আছে ছররা বুলেট


আশ্বিনের কবিতা ৪



কাল সকালে
-স্বাগতা দাশগুপ্ত

তোমার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া ধাক্কা  মেরে হুমড়ি খেয়ে পড়া সব কষ্ট, আগুন আগুন চোখ থেকে ঝলসে পড়া কষ্ট, ইয়াব্বড় শরীর থেকে উপচে আসা কষ্ট, তোমার গায়ে লেপ্টে দেওয়া সকাল-বিকেল গরম-গরম কষ্টগুলো একমুহূর্তে আনন্দহোকপালটে গিয়ে আনন্দ হোকদুমড়ে-মুচড়ে আনন্দ হোক। আমার মাথায় ঝরে পড়া সব পাখনা, ওদের হাত-পা গজাকগরমকালে তোমার বাড়ীর আশপাশে ঝাপটে মরুক তোমার গাছের নিচেআসতে-যেতে লেপ্টে যাওয়া পাপোস থেকে ওরা রেণু মাখুক। ধুলোই খাকতোমার চায়ের কাপের হাতল থেকে একটু একটু গন্ধ খুলুকতোমার হাত বেয়ে বেয়ে নেমে আসা সব পরশপাথর খানিক নাহয় আশ্রয় দিকদুই বুকে দুই গন্ধমাদন আজকে নাহয় একাই তোলোআসছে শীতে আমিও থাকব লেপের রোঁয়ার হাওয়ায় হাওয়ায় আমিও পটাশ জন্ম নেব আগুন আগুন দুপুরবেলায় তোমার গায়ে জাপটে থাকা কষ্টগুলো আমার ঘরে অন্ন ফোটাক লেখার খাতা ভরিয়ে দিক কাল সকালে ভরিয়ে দিক চোখের পাতা ...   

আশ্বিনের কবিতা ৩


রোববার
-অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

কতটা সংশয়পথ উপচে উঠেছে ক্ষেত্রফল
বারুদের শিকড়বাকড়
মানুষের মত নামধারী কিছুটা গোপন, তাহাদের তফাতেরা  
নিজের শরীর থেকে কাঁটাফুল ছাড়ানোর খেলায় আদিম
তার খুব কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনায়
এতদিনে বালি বালি অসহজ নীল
সম্ভাবনা নস্যাৎ করে জল গড়ানের দিক থেকে উত্তলে
মাটির খনিজ থেকে মায়া এসে দুহাতে সরলরেখা
পাখিদের খুঁজে আনে ডানাদের নিরাময়ে    
একেকটা রোববার এরকমই আলোর উড়ান

আশ্বিনের কবিতা ২





তাহাদের পরে সাইমিয়া ক্যাসিয়া
-তন্ময় ধর

জলরঙে পাখি-
 পাখি আটের ঘরে আয়
টাটকা মিষ্টি উ রাংতা খুলে পাখি ডাকল-
অন্য ইশকুলের চুপচাপ

জাফরানী আলোর গন্ধে ঘন্টা বেজেই চলেছে
   আর অথৈ পাগল
 হস্তলিপি থামাচ্ছেই না

মুচমুচে বৃষ্টির পূর্বাভাস
 চিবোতে চিবোতে
তোর মতো একটা টিউনিং
  লাফিয়ে উঠছে সবুজ ব্রিজে

উঃ
পাথরেও পাখির ইকো-ট্যুরিজম থেকে
ঝাঁপিয়েছে বার্নট সায়েনা

আয় আয় পাখি

সমাদৃত ব্যঞ্জন জুড়ে
পাগলের জিভে সেফ-সাইড
উহ
   কিম্বা
       রূহ

ব্যূহ...

আশ্বিনের কবিতা ১



আস্তাবল
-অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়

ছিল হিম্মতের পাশাপাশি। আর ছাদের চারদিকে জড়িয়ে আছে মানুষের মতামত।একটা বিকেল যেখানে শুরুর কথা বলতে চেয়েছিল সেখানে সন্ধ্যা এসে নেড়ে গেছে মাথা আর কিছুটা চোখের আড়াআড়ি।কান্নার সেদিন ঘরএ ফেরা হয় নি আর। দেখা হয় নি এই চেনা রাস্তাটার সাথে।আর গাছটা সারারাত কত কি লিখে রেখেছে নিজের খেয়ালে। উহ্‌ করলে পাশ ফিরে আরেকটা নাকের ব্যঞ্জন। আর চেনা হাত ঘিরে ধরছে সবটা দেওয়াল। রু তখনো আবজানো। আর অনবরত খোলার চেষ্টায় কিছু মানুষজন। একটু আকাশ আর তাকিয়ে থাকা ল্যাডার।

ফোন কলস্‌ এ কেটে যাচ্ছে এক্সরে। চিনেও সেইসব দেখা যাচ্ছে না ঠিকঠাক। আর এই যে রাজার তলব তাকে ভুলে থাকার দায় যে নিয়েছে সেই মানুষটাই এখন বাঁশি বাজাচ্ছে পুকুরের পারে। আর রাণীমা মনে মনে গেয়ে উঠলেন জানালায়।

আস্তাবলে গিন্তি হচ্ছে আমাদের বাচ্চাদের। আমাদের নারী পুরুষদের। কিছুতেই হিসেব মিলছে না। কিছুতেই আজ সারাদিন কিছুই মেলেনি জঙ্গলেও। যাকে খাতায় লেখা হয় আদমসুমারী। বড়বাবু অনেক চেষ্টা করে সাহেবকে মানিয়েছেন।কিন্তু আস্তাবলের খবরটা কিভাবে দেবেন রাজা কে।

পাশে বৌ বসে আছে  রু আবজানো নিয়েই। মেয়ে বসে আছে রুনি নিয়ে। আর একটা সাদা মেঘ বেরিয়ে আসছে রাজবাড়ি থেকে। কোথায় যাচ্ছে ? যদি বলি না যাচ্ছে না। ফিরে এসেছে আমাদের হিসেব।ডান বা সাজানোর রং...

এবার বড়বাবুর চোখে আনন্দের বৌ আর মেয়ে দৌড়ে যাচ্ছে মেঘ ধরতে। সাদা সাদা রু ধরতে।

Sunday, 1 September 2013

নভস্য শেষের কবিতা ৭



ফেনা
-    জয়শীলা গুহ বাগচী

এই অন্তর্বাসে এই আলোমুখি প্রভাব
ধুয়ে যায় কামরাঙা বেলায়
  আরও
  উঁচুতে
গালিচার চুমু আসে থেমে
সেই স্থির
সূত্রের বিষন্ন ঘুম
সিঁড়ির বাস্তব খুলে
ফোঁটা ফোঁটা গোপন
নদীর আদর হয়
নদী থেমে গেলে
  বাড়িঘর
  ঘরবাড়ি
পাড়াতুতো কোল
ঢুকে পড়ে অন্তর্বাসে
এই ঘনঘটায়