Monday, 20 April 2020

বৈশাখের কবিতা ৬

Benode Behari Mukherjee: Light and Shadows of an Artist's Life

সেবায়েৎ
           - বহতা অংশুমালী মুখোপাধ্যায়

নিত্যদিন ভারি হয়ে যাচ্ছেন, আপনাকে আর
একা একা বওয়া যাচ্ছে না
হে গোপন, আপনাকে নামিয়ে রাখাও যাচ্ছে না
হাঁপানোও যাচ্ছে না, ফোঁপানোও যাচ্ছে না
একা রাস্তায়
প্রিয় বাহুবন্ধের হার
আলগা করা যাচ্ছে না
চায়ের দোকানে
ভাঁড়ে বক্র ওষ্ঠ রেখে চুমুক দিচ্ছেন
মায়ের ওখানে
পরিপাটি বিছানায় তুলোর বালিশে
আসছেন, আসছেনও না
হে প্রাচীন
প্রাগিতিহাসিক কামনার
খেতে খেতে আপনাকে মাছের টুকরো ধরে দিই
আচমন করিয়ে দিই আমি মুখ আঁচাতে আঁচাতে
চাঁদের যে মই নামে জানলার থেকে বিছানায়
তার কাছে আগুয়ান করিয়ে দিই ঘাড়ে হাত রেখে
নিত্যদিন ভারি
একান্তের নিত্যসেবা নিয়ে


(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)




বৈশাখের কবিতা ৫


Between Sight and Insight: Glimpses of Benode Behari Mukherjee at ...

ম্যুরাল
      -পার্থজিৎ চন্দ

কমলালেবুর খোসা ছিঁড়ে ফেলবার আবার সময় হল, আমিও আনচান করে উঠি। স্নায়ুর ভেতর কালো মদ চলকে উঠেছে; যেন ভোররাতে দুধের ভেতর থেকে উঠে আসা মহিষের ছায়া। মদের ভেতর প্রত্ন-পোকাদের মতো কিলবিল করা স্নায়ু… বহুদূরে পড়ে থাকা স্মৃতি-শর্করার দিকে ভেসে যায়। আমি জানি এরপর তুমি নিটোল কমলালেবুর আভা নিয়ে চেয়ারে বসবে। অভিজাত চকচকে নখে খোসা ছাড়িয়ে রাখবে সুগোল টেবিলে। মাত্র একবিন্দু অসতর্ক রস লাফিয়ে উঠবে শূন্যে (ও তোমার প্রসারিত জিভে আশ্রয় পাবে)। একে একে পুরুষ্টু হলুদ কোয়াগুলি মাটির থালায় পাশাপাশি শুয়ে… যেন সহদর… যেন সূর্যমুখী নার্সিং-হোমের প্রসব জগত। এ সময়ে তোমার অঙ্গুল চুষে কমললেবুর স্বাদ পাই। তোমার পায়ের কাছে পড়ে থাকা খোসা। পাগলের মতো বুড়ো আঙ্গুলের নধর শরীর মুখে টেনে নিয়ে পাই বাগানের দিকে হেলে পড়া পাইন-গন্ধ ও ছায়ার আগুন

তোমার কমলালেবুর প্রতিবিন্দুতে অবাক যৌনতা তীব্র ইশারা ও অজানা ভাষার লুপ্ত ব্যকরণ। খোসা হাতে নিয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখি নিখুঁত মুর্যাুল, দূর পাহাড়ের থেকে নেমে আসা আদিম মুখের বলিরেখাগুলি… ধকধক করা

(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)

বৈশাখের কবিতা ৪

Postcards from Benode Behari Mukherjee |

ঘৃণা পরম ধর্ম
               -সুপর্ণা মণ্ডল


১.

জীবিতদের আদালতে সব দোষ
মৃতদের উপরেই বর্তায়
মৃত্যুর পর তুমি কোন বিচারের অপেক্ষা করছো?

২.

কাকে আঘাত করতে চাও?
ভেঙে চুরমার হল আয়না।

৩.

একটি শিশু কাঁদছে
শিশুরা তো চিরকাল কেঁদেই থাকে
কান্নাই ওদের ভাষা
কিন্তু আর একটি শিশুকে দেখো
সে কিন্তু কাঁদছে না একেবারে

(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)

বৈশাখের কবিতা ৩

A Family Living Road side BENODE BEHARI MUKHERJEE Oil Color 20th ...

বরফ বৃক্ষের উচ্চারণ 
                           -শিবু মণ্ডল 

এই তো মৃত্যুর বেতবন থেকে ঘুরে এলাম

সেখানে উদ্দেশ্য ছিল, রাস্তা ছিল না, আবার ছিলও

সেখানে শুয়ে শুয়ে যাওয়া যায় বসে বসেও

সেখানে হাতে করে কেউ বোতাম বুনে দেয় জামার গায়ে



তারপর গর্ভবতী নারীর ফুলে ওঠা নাভির দিকে তাকিয়ে বসে থাকি

(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)

বৈশাখের কবিতা ২

Benode Behari Mukherjee: Light and Shadows of an Artist's Life

 মুক্তক
      -মৌমিতা পাল

জলের ওপারে যাবার জন্য একখানা নৌকা
পাঠিয়ো তো সাধনসঙ্গিনী;
একটু একটু করে
   বদলে যাচ্ছে সম্পর্ক।
 কথামতো ডিপি না বদলালে অভিমান হয় তোমার,
ভোর পাঁচটায়
   নতুন বাঁধা গান শুনিয়ে
ঘুমোতে যাই আমি।
পাখিরা দেদার ওড়ে
মায়াবী শ্রম শেষে।
সাধনসঙ্গিনী তোমার দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গী হয় তখন
দুচারখান মানুষপ্রধান সম্পর্ক।
তোমাকে মেসেজে লিখি
-'এবার ঘুমা'।
ভুলের আমদানীতে
      ছলছলাচ্ছে বুক,
আতঙ্কআকাশকে
   তাজ্জব বানিয়ে
সাধনসঙ্গিনী বলে ওঠো
-"তোর তো অনেকের প্রতি প্রেম
আমাকে নিয়ে
খামোখা ভাবতে হবে না"।
টুপিটুপিয়ে গড়িয়ে পড়ে বুকে
 এ কেমন নিক্কন!
হেসে টাইপ করি -
"এর থেকেই বোঝা যায়
কতটা ভালোবাসিস!"

আতঙ্কআকাশকে
তাজ্জব বানিয়ে
 অভিমান অভিমান খেলছিলাম শব্দের মহল্লায়।
মানুষের খাঁচাগুলোতে
         শব্দাবলী নয় , স্বকালপাঠক নয়
আমাকে একমাত্র ত্রাণ করতে পারে তোমার মস্করা

(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)



বৈশাখের কবিতা ১

Exhibition in London to focus on works by Indian modernist Benode ...

হোম কোয়ারেন্টাইন
                   -পাপড়ি গুহ নিয়োগী

আর কিছুদিন অপেক্ষা কর
দীর্ঘ হলুদ ভোর হবে
ধীরে ধীরে ধুয়ে যাবে কালো রং

আমাদের একান্নবর্তী স্কুল খুলবে
পাড়ার চায়ের দোকান
আবার দায়িত্ব বাড়বে জুতোর

আমরা আলোর গল্প করবো
জলরঙা হবে আমাদের জন্মদিন
পেরেক তুলে নেবো মানচিত্রের পা থেকে

দেখিস
রাস্তাটা হঠাৎ বাঁক নেবে
আনন্দ বাজারের দিকে

বিশ্বাস রাখ,দূরত্ব কমে যাবে
ঘরে ফিরবে পরিযায়ী শ্রমিকরা
এসব অপেক্ষা আর থাকবে না

শিশুরা দুধ পাবে
আমরা সবাই থালাভর্তি গরম ভাত
প্রতিমুহূর্তে আর মৃত্যু খেতে হবে না

মুখোশহীন মুখ দেখবো আবার
রবিবারের আঁকার স্কুল খুলবে
কারণে অকারণে হাসবো

দমবন্ধ জীবন মুক্ত হবে
কৃষকের অবুঝ ফসল
পড়ে  থাকবে না মাঠে

আমরা বুনোফুল । নদী। অরণ্য
সমুদ্র। পাহাড়ের কাছে  যাবো
আবার  ঠোঁট  পাবে আশ্রয়

বিপদ আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে
ধর্মস্থান  আসলে
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের  পিছনেই  থাকে

( ছবিঃ বিনোদবিহারী মূখার্জি) 

Tuesday, 25 February 2020

কুসুমের মাসের কবিতা ১২


Joseph Stella: Battle of Lights, Coney Island, Mardi Gras (1913-14)

মুলতুবি দেওয়াল বরাবর
                    -সম্পিতা সাহা


হাহাকারের মতো প্রেতঘুম।
জেগে উঠে দেখি গর্ভদণ্ডছায়া খুলে গেছে।
তুমি ঠোঁট খুলে ঘুমাও।
গিলে নাও, কস্তুরিমেঘ নিজের বুকে।
জানালা বেয়ে গতরাতের বৃষ্টি ঝরে পড়ছে... এসো এখন।
এসে দেখো, কত যত্নে বাড়িয়ে তুলছি দাগের কাছে সাম্যতা...

আরোপ থেকে সরে গিয়ে,
সাদা প্লেটে সাজিয়ে আনি প্রাতঃরাশ।
তুমুল যন্ত্রণায় গিলে নিতে পারিনা
মনোহারি পাখির মাংস।

ডুবন্তছায়া...

ঘেমে ওঠে প্ররোচনা।
সমস্ত দরজার মুখে একটা করে
ঘন্টা ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে কেউ।
আসতে যেতে আওয়াজ হয়।
ভাবি ছুটি হয়ে গেছে।
প্রক্ষালনে জাদুপায়রার হাতছানি...
সম্ভবত এখনই মোহ কাটিয়ে উঠবে শরীর।

অতঃপর...

তোমার বিশ্বাসের কাছে এসে দাঁড়াই।
স্বপ্নবৎডিঙা আর আঁধার থেকে
কুড়িয়ে পাওয়া ঘ্রাণ,
তুমি গিঁট মেরে রাখো।
আমার প্রশ্বাস কমে আসে।

তৃণখণ্ডদ্যুতি...

তোমার মায়া হয় না।

হাতে রত্ন পরেও টের পাও না,
আঙুল অসার হয়ে যাচ্ছে দোষারোপের ভ্রমে।

(ছবিঃ যোসেফ স্টেলা )