Tuesday, 25 February 2020

কুসুমের মাসের কবিতা ৯



অহন আমরার গায়ে হুদাই 
                              -নীলাব্জ চক্রবর্তী



অহন আমরার গায়ে
হুদাই এই ঢিলাঢালা শব্দগুলি কেম্নে ফিট অইব
ভাষা ফালাইতে ফালাইতে
হেরা গাছ হইয়া উঠতেসে কেম্নে
শাটার অবধি লিখতেসে
যারা মাংসের ভিত্রে গান রাইখা
ভুইল্যা গ্যাসে কাগজের এক একখান দিন
আলো কারখানার পাশেই
বসায়ে রাখসে বুজায়ে ফালান পুকুর
হাওয়ার ভিত্রে
তোমাগো ভাব উড়তেসে দেইখ্যা
ফিজিক্স পড়তে বইসা
পিঠ চুলকানের মস্ত একখান লাঠি দিয়া
ভ্যানোপ্রসাদ আমারে গুলি করনের ভাব করলে
পইড়া যাওনের ভাব করতে করতে
এহানে বইসা বইসা
এই কবিতাডাই লেইখ্যা যাইতে থাকুম
যতক্ষণ না
আমরার পাও আমরার বাপের পাওয়ের লাকান ফুইল্যা ওঠতাসে...

(ছবিঃ গিনো সেভেরিনি )

কুসুমের মাসের কবিতা ৮

Carlo Carrà: Funeral of the Anarchist Galli (1910-11)

সাং 
              -রাজেশ শর্মা 


'মম আঁখি হইতে পয়দা, আসমান জমিন।
আর পয়দা করিল যে, শুনিবারে যত।
সবদ, সাবদ, আওয়াজ ইত্যাদি যে কত।।'

           ----হাসন রাজা


বাড়িতে ফিরে এলে উৎসব হয়। জীবিত অথবা মৃত
দু'রকম উৎসব

মৎস স্পর্শ  হবে বলে  বুড়া লোহিত ডিম ভরে পেটে


বাড়িতে ফিরে এলে। উৎসব হবে। জীবিত অথবা মৃত


দেশি, বিদেশি অথবা ডিটেনশনতাড়িত।

(ছবিঃ কার্লোস কাররা) 

কুসুমের মাসের কবিতা ৭

Image result for futurism painting

সংশ্লেষ
             -মীনাক্ষী  মুখোপাধ্যায়

সন্ধ্যা নেশাতুর হলে জোনাকি উড়ে যায়
 চোখ মুখস্থ করে ঠোঁটের তিল
ঈশান কোণের জরুল

বাস্তুসাপ শিকারে তখন নিশাচর
জিভ থেকে খসতে থাকে লালা

গা পুড়ে যাচ্ছে ধুম তাপে
অথচ জ্বর শূন্য থার্মোমিটার

 খুব ভোরে ডুব দিই পুকুরে
কোচল ভরা কাঁকড়া তুলে আনি
উনুনে নতুন মাটি নিকাই
চুলের জলে ভিজতে থাকে পিঠ

বৃষ্টি পড়ে ...

হাঁড়িতে ফুটতে থাকে ভাত
উথলে ওঠে - ঢাকনা  কাপে
পোড়া কাঁকড়ায় ঘোষতে থাকি নুন লেবু লংকা

হাওয়ায় গামছা উড়লে
আঁশটে ও ঘামের গন্ধ  নাকে এসে লাগে
 মোচড়  দেয় তলপেট

ছাতার নীচে জমে ওঠে কাদা

তাপ পরিমাপের একক ভুলে

এখন

পারদ দেখি থার্মোমিটারের চূড়ান্ত ডিগ্রীতে

( ছবিঃ কাজিমির ম্যালেভিচ )

কুসুমের মাসের কবিতা ৬



মেছো থালা
       -সুতপা চক্রবর্তী


ভালোবাসার বেড়াল হয়ে বুকের মধ্যে
থাকা হয় না
নধর বালকের বাঁশিমুখো ঠোঁটে
বাজে তোর কীর্তনীয়া প্রলাপ
আমার প্রসন্ন বিকেল বল্কলপ্রেম জুড়ে ঝড় বয়
অক্ষরে অক্ষরে স্নান চলে
বারুনিঘাটের

আমরা ভীরুহটি
                   পশ্চিমকোণে

 বেড়ালের আদরমাখা  মেছো থালাটির মতো

(ছবিঃ উমবের্তো বোক্কিওনি )

কুসুমের মাসের কবিতা ৫



প্রলাপ
            -রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ

যুদ্ধ শেষে ধ্যানমগ্ন দৃশ্যে
চৌচির একছত্র বিষণ্ণ টোপ...

বিপণন শর্করা রাতে
হেঁটে যায় ছায়ার প্রলাপ।

(ছবিঃ নাতালিয়া গোঞ্চারোভা )

কুসুমের মাসের কবিতা ৪




ট্রাম্পেট
           -মৌমিতা পাল

'চললুম ', কথাটা কম করে হলেও
সত্তরবার বললাম।

তাকে ভালোবাসি বলে গুলি করব না এমন দিব্যি খাইনি কখনো,পিস্তল উঁচিয়ে ফালা ফালা করে দেব খুলি ,ধুত্তোর গুলি!তেষ্টা মেটাই আগে !
বুকের কোণে বিপন্নতা ঝনকে ওঠে,
তাকে দেখিনি কয়েকশো দিন ।
এক একটা দিন হাজার সমান ,মরেই যাব !
মরেই যাব ,মেরেই যাব ,
যাহোক কিছু করেই যাব!

বুকের কোণে বিপন্নতা ঝনকে ওঠে,
তাকে দেখিনি কয়েকশো দিন ।

একটা লোক ছবিলাল
একটা লোক বাজপাখি
একটা লোক নাবালক
একটা লোক জলভাত
একটা লোক রাজহাঁস
একটা লোক বিষণ্ণ
একটা লোক জঘন্য

এসব চিনতে প্রেম শিখিনি
বুকের কোণে বিপন্নতা ঝনকে ওঠে,
তাকে দেখিনি কয়েকশো দিন ।

চেয়েচিন্তে খুবলে খাব
ভেবেচিন্তে একলা হব
মালবাবুর বউকে বিছানায় তুলব
দেখেই যাব দেখেই যাব
ধরতে দিলে ভোর ফাটাব
অকস্মাৎ পৌছে যাব
                                তার বাড়ী!

নির্ভুল তাক করে ,'চললুম' বলে ফিরে আসব!

(ছবিঃ জুলে শোম্যালৎজিগগ )

কুসুমের মাসের কবিতা ৩



দেখে দেখে লেখা
                 -জ্যোতির্ময় বিশ্বাস



২৯
এই জানুয়ারিতে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে গেলাম
তারাদের ব্যবহৃত রোদ
পড়ে থাকবে নীহারিকা মেডিকেলে। বসার জায়গায়।

৩০
এই জানুয়ারিতে ক'জন নতুন পরিচয়
মালদা থেকে বীরভূম থেকে শিলিগুড়ি থেকে...
জগতের বন্ধু দিয়ে জীবন ভরে যাক।

৩১
দুটি কাজের তুল্য কাজ নেই
দুই, নিখুঁত থাবায় খামচে টেনে লম্পটের মুখোশ খুলে
ফেলা। এক, বাঁধাকপি কাটা।

(ছবিঃ যোসেফ স্টেলা )