Tuesday, 25 February 2020

কুসুমের মাসের কবিতা ৩



দেখে দেখে লেখা
                 -জ্যোতির্ময় বিশ্বাস



২৯
এই জানুয়ারিতে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে গেলাম
তারাদের ব্যবহৃত রোদ
পড়ে থাকবে নীহারিকা মেডিকেলে। বসার জায়গায়।

৩০
এই জানুয়ারিতে ক'জন নতুন পরিচয়
মালদা থেকে বীরভূম থেকে শিলিগুড়ি থেকে...
জগতের বন্ধু দিয়ে জীবন ভরে যাক।

৩১
দুটি কাজের তুল্য কাজ নেই
দুই, নিখুঁত থাবায় খামচে টেনে লম্পটের মুখোশ খুলে
ফেলা। এক, বাঁধাকপি কাটা।

(ছবিঃ যোসেফ স্টেলা )

কুসুমের মাসের কবিতা ২

Speeding Motorboat - Benedetta Cappa


সাঁতার উদযাপন
                 -শিবু মণ্ডল 


প্রস্তাবিত ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করার পরেই আমরা সাঁতার শিখব
জলাশয়ের বার্ষিক উদযাপনে হাঁড়ি চড়বে নক্ষত্রলোকে 
আমাদের জলজ সন্তানেরা পিঠে সৌরআলো ধরে হামাগুড়ি দেবে

সাতবছর ধরে ঢেকে রাখা বিরিয়ানির গন্ধে ম ম আজ তুলে রাখা ছুটিবেলা
তুমি কবুল কর আর একবার!তুমি কবুল কর আর একবার!
তুমি কবুল কর আর একবার!

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তুলে আনা মমি উপত্যকায় পৌরাণিক পরম্পরার ভিড়
আমরা এক সৈনিক ও এক সন্ন্যাসীর মৌন মুহূর্তের সাক্ষী হবো
ধ্যানের নির্জনতায় বারুদের শব্দ ভেঙে দিয়ে

(ছবিঃ বেনেডেট্টা কাপ্পা )


কুসুমের মাসের কবিতা ১

Composition, 1926 - Félix Del Marle

হেমন্ত 
           -রঙ্গন রায়


জানলার নিচে মুরগির খসখস শব্দে এখন আর বিরক্ত লাগছেনা এতটুকু
আলতোভাবে বিকেল নামছে , এরপর ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে পড়বে -
এক অদ্ভুত মন খারাপ আছে এই হেমন্তে
উপভোগ করা যায় , উল্লাস করা যায়না -
প্রতিটি পাখির ভেতর যেন এস্রাজের সুরের মত ছড়িয়ে গেছে ঋতুমতী
না হওয়া হেমন্তের দুপুর -
তারপর রেসকোর্স পাড়ার দিকে , শহরের বাইরের দিকে , মানুষের
আলগা হয়ে আসা ভীড়ের থেকে দূরে , আরোও দূরে ...
রিক্সা থেকে আমার লাফ দিতে ইচ্ছে করে ,
 যেকোনো চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়
আমি ভালো আছি -
আমার কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নিলেও ; আমি ভালো আছি -
কিন্তু একথা সবাই জানে ভালো থাকার কথা কেউ চিৎকার করে বলেনা কখনো
আমার সত্যিই ভীষণ অস্বস্তি হয় ,
রেসকোর্সের এদিকে এখনো রয়ে গিয়েছে ইউরোপিয়ান বাড়ি
ফাঁকা নির্জন একা একা বাড়ি - গাছের খসা পাতা - বিলিতি আলোর শেষ বিন্দু
তার মধ্যে দিয়ে রঙিন পোশাকের নরনারী হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে
ঊনবিংশ শতাব্দীর দিকে ---
আমার এসব একদম ভালো লাগেনা , ভালোবাসার ভেতর ভালোবাসাহীনতা দেখি
এমন সময় তুমি বোলপুর থেকে আদিবাসী মেয়েদের  নাচের ভিডিও পাঠাও ,
সেই সুর  আমার মধ্যে আসে , অদ্ভুত ঘোর তৈরি করে ভেতর ভেতর
প্রখর ইউরোপীয় পাড়ায় বসে পাই
আদিবাসী মেয়েদের চুলের গন্ধ , মাদলের শব্দ ---
অথচ চারপাশের ইউক্যালিপটাস সাদা মুখো সাহেবের মত
আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে , হাসতেই থাকে

(ছবিঃ ফেলিক্স দেল মার্লে )

Monday, 20 January 2020

হিমেল মাসের কবিতা ১০

Related image


শিরোনামহীন
                      -বল্লরী সেন

কাল রাতে
যে তোমার ডাকঘর ছুঁয়ে বসেছিল
ঘুমিয়ে পড়া মনোনিবেশ, আলসেমির ছায়া, খর প্রলুব্ধতা
যে তোমার শরীর ছুঁয়ে
চেখেছিল প্রতিটা সন্নাটা,তাকে
তার বেপরিচয়ে কিরকম হয়ে পড়ছো আজ
একটা একটা করে মাঠা তোলা দুধের মতো সে পেয়েছে
স্বর্গ| সে মেপেছে জলের হিসেব, কতদূর সাড় নেই
কোনখানে শাঁখের করাত, লাগে, ব্যথা লাগে| এইমাত্র কথা |
কোজাগর শাঁস ভাঙা ডিমের সাদায়
সে সব দাগ ধুয়ে ফেলো| খুচরো কোরো না |
দুরন্ত ষাঁড়ের সামনে জাল্লিকাট্টু পরবের দিন একা বয়ে যায়, সে অন্ধ বধির
কানে তালা |
বরফ পড়ছে বলে কাল সব জানলার দেহে ঘুমের ভেতর থেকে কে যেন কেঁদেছে ,
দুপুরের চাঁদ বোঝে এ ও এক মুখ বুজে
থাকা

( ছবিঃ আন্দ্রে ম্যাসন )

হিমেল মাসের কবিতা ৯

Image result for war painting surreal


দিনলিপি
       -জয়শীলা গুহ বাগচী 
                     
 কতদিন পর হাতে সাদা পাতা, খুলে যাওয়া আমৃত্যু মেঘ। অদম্য অক্ষরের পিছুটান, হাত... হাতের পাতায় পাখির স্রোত। এইসব হঠাত ঘটে। প্রতিদিন তো আলোচালের ভাঁজে ভাঁজে সত্যিই মোরগ ডাকে না। অথবা কোন এক সাদামাটা ডাল...ভাত... অমোঘ যুক্তির মতো প্রকান্ড লাফ হয় না। প্রতিদিনের লেখালেখিকে কেজো জামা পরতে দেখলে নিজেকে উপবাসী জীভ বলে ভাবি। অথচ নিজেকে লিখতে গিয়ে আমাকে ছিঁড়ে খায় পুড়তে থাকা মেয়ের দল, মাথা ফুঁড়ে উপছে পড়ে রক্ত-গন্ধ। মস্ত মস্ত দাঁত বসে যায় হাতের আঙুলে । কী লিখবো ভাবি , বিশ্বাস পুড়ে গেলে আত্মের কী থাকে? সেইসব গন্ডির? যা কিনা গড়া হয়েছিল কাঠামো রক্ষায়? তারা কি চেপে বসে? নাকি ধোঁয়ার বিশ্লেষণে হারিয়ে যায় রূপ অরূপ দুইই। ধোঁয়া ওড়ে, আত্মপোড়া ছাই আবার পোড়ে, পুড়তে পুড়তে শুদ্ধ, শুদ্ধতম কোনটাই হয় না। রাস্তার কোণে সামান্য ধূলো হয়ে উড়ে যায়। অনন্ত শূন্যতার মাঝে, অনন্ত জীবনের মাঝে রক্ত মুছতে মুছতে আমার আর লেখা হয় না। লেখার জন্য লেখা হয় না কিছুই।

(ছবিঃ পল ন্যাশ)

হিমেল মাসের কবিতা ৮

Image result for war painting surreal

শীতের চিঠি
             -সুমনা দত্ত


দূকূল ভাসিয়ে শীত নামে এই পাড়ায়।
সাদা হিমে ভরে যায় ছাদের কোন।
নিম্নচাপ হয়, জলপ্রবাহ।

সব্জিওয়ালা বসে না।
খালি ব্যাগ নিয়ে ফিরে আসে মিনুদি।
চিঠি লিখে।
কাটাকুটি হয়।
আবার লেখে।

তোমার ঘরে শীত নেমেছে, রঙ্গন?
উপচিয়ে চোখ ভিজেছে?


আফ্রিকার জামা পরে আসে পোস্টম্যান।
নীল সাইকেল দেয়ালে ঠেস দেয়।

কুয়াশায় ভরে যায় তার টুপি।
আণ্টার্টিকার চশমা।

ব্যাগ থেকে শীতের চিঠি বের করে।
ছুঁড়ে দেয় উদ্ধৃত সারণিতে।

শব্দ কি বোঝে,
কত জন্মান্তর পেরিয়ে গাছের একটা করে শীতজন্ম হয়?

(ছবিঃ আন্দ্রে দলুহোস) 

হিমেল মাসের কবিতা ৭



পাখিবেশ
             -শিবু মণ্ডল

তুমিও পাখির বেশে ডানা মেলাকে মুক্তির সমার্থক ভেবে নিলে!

গাছের ডালে কোনও ডাক নেই, বাসার বাঁধনে কোনও গ্রন্থি

ওড়াকে ধ্রুবক ধরে ব্যক্তিগত ক্ষুধা বাতাসে ঘুরে ফেরে



শিকড়ে কোনোকালে রং ছিল না। তবু নিজস্ব ভ্রমকে

বালির উপর হেঁটে চলা পাখি ভেবে নিলে



স্বপ্নে কখনো কখনো ডাহুক হাঁটে অভ্যাসে

পরিযায়ী সংসর্গে লিপ্ত হয় প্রিয় শিল্পীর গড়া তাঁবু ও রাত্রি

কথা হয় এলোমেলো নিজের সাথে মাটির পাখির

(ছবিঃউইফ্রেদো ল্যাম)