Wednesday, 10 October 2018

কাশফুলের মাসের কবিতা ১১

Astronomy Photography of the Year shortlist Cable Bay photo

ধাইর*
              -সু চক্রবর্তী


তোষকের তফাতে চলে

কানাঘুষো।

তঞ্চকের শিয়রে

কুলুঙ্গির ফাঁকসমান  চুলা,
আমাদের লংকার মতো
তারও
গাঁটে গাঁটে ইটমাটি ভাঙা বাঁশ।

মালোই*
জুড়ে অযোধ্যা!

সীতাহরণ ;ব্যসন বালিশের

বিছানায়
----

বি.দ্র-

ধাইর- বারান্দা
মালোই- নারকেল মালা
-------------------------------------
(ছবিঃ মার্ক জী) 

কাশফুলের মাসের কবিতা ১২


Astronomy Photography of the Year shortlist Florida photo

হেমন্ত কুলীন ঋতু
                          -জয়ীতা ব্যানার্জী গোস্বামী

হেমন্ত কুলীন ঋতু,কুয়াশাকে বলতে শুনেছি
ছাতিমের ঘোর আর গুটিকয় ভাসানের আলো
জানালায় এর বেশি কোলাহল রাখেনি কখনও
গোপনে ভেঙেছে শুধু শীতকাল গড়ে দেবে বলে

ধূসর উঠোনে তার কেটে যায় অসুখের দিন
"এই বেলা ভালো আছি ,সেরে উঠবোই দেখে নিও"-
চিঠি লিখবার ছলে নিজেকে নিজেই ছোঁড়ে ভ্রমে
ও কি সেরে ওঠে? কই প্রতিবার অজুহাত খাটে  !
     
নির্বিকার তবু তাকে ঘিরে বাঁচে সবুজের নামে
একেকটি ভোর আর প্রেমিকার ফেলে যাওয়া ফুল
কখনও ফিরতি পথে যদি খোঁজ নিতে আসে কেউ
উঠোনে দেখেই যেন ," ঘরে এসো",বলে দিতে পারে

হেমন্ত কুলীন বড় । অপেক্ষা সাজাতে ভালোবাসে
আতপের ঘ্রাণে লেখে নবান্ন ও ফসলের মাস

(ছবিঃ তিয়ান্যুয়ান জিয়াও)

কাশফুলের মাসের কবিতা ১৩

Related image

পাহাড়ের এই বাতিঘরে 
          -সৌমনা দাশগুপ্ত


ভেসে যাওয়া পাতাদের ছায়ার ভেতর থেকে আলোহীন মানুষেরা তোমাকে “উল্লাস” বলে স্বাগত জানাল। আর উচ্চকিত অন্ধকারে গলার স্বরের মতো ডেকে উঠল একদল নেকড়ে। রাসায়নিকের এই ঝাঁঝালো  বাষ্প অব্দিই তোমার চোখ পৌঁছোতে পারছে। তারপর আর কোনও পাহাড়ই থাকছে না প্রচ্ছদে যার ওপর  ঠেস দিয়ে তোমার সূর্যটাকে দাঁড় করিয়ে দিতে পার।  গলে যাওয়ার পর শেষ বা শুরু বলে তো আর কিছুই নেই। ছায়া খুলে রেখে একা একাই চলে যাচ্ছে গল্প। মাংসের এই বাগানে তুমি আর ঢুকতেই পারছ না। জমাট পাথরের কুয়াশা কোনও যাদুদন্ড দিয়েই কেটে ফেলা যাবে না। আর আকার ভেঙে ফেলার পর রেখা এবং বিন্দু বিষয়ক কোনও অধ্যায়ের তো প্রশ্নই নেই। শুধু এবং শুধুমাত্র বাতাস আঁকড়ে ধরে তুমি পৌঁছে যাচ্ছ সেই চূড়ায়, যেখান থেকে নেমে এসেছিল এই গল্প

(ছবিঃ বার্কেহান বেন্ডিভার) 

কাশফুলের মাসের কবিতা ১৪


Related image

বনদহনের ঘাস
                     -জ্যোতির্ময় মুখার্জি         



এভাবে তোমাতে বনদহনের ঘাস

উদ্বাস্তু হোক। উদ্বাস্তু হোক

                              শরীরী গুম্ফা


কোনো কথা নেই। নেই কোনো মনোরম অসুখ

ওসব ছড়ানো পথ। ওসব জড়ানো পা

কী যেন তার নাম

খেলতে খেলতে দৃশ্য কাঁকন কুমারী মাঠ


চুরি গেলে ব‍্যবধান

চাঁদেরাও হেলেদুলে এসে চিবুক চেঁটেছিল

(ছবিঃ ফ্রেড উইলসন)

কাশফুলের মাসের কবিতা ১৫


Image result for milky way galaxy painting

পরিস্থিতি
             -পিয়াল রায়

ঢাকনা খুলে দিতেই একপাল হিম
জল নিতে এল পাড়ায় পাড়ায়

ওরা তো জানে না
এতদিনে কোথায় কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে
ওদের কুকীর্তিগুলি

যতদিন শক্ত ছিল
     রোদও ছিল ততদিন নরম

গলে যেতেই মাছেদের সাম্রাজ্য
   ভেঙে পড়ল অববাহিকার উপর
ছিটকে গেল ভীরু কাপুরুষ অঙ্গহেলন

আমি বরাবরই তার পায়ের কাছে নত

আজ বা কাল যেভাবেই হোক
     আমি জানতাম ফিরে আসাটাই
 সবচেয়ে সহজ

সবচেয়ে সহজ নিজের ভিতর অক্লেশে দিনাতিপাত

(ছবিঃ ভেরোনিকা মিনোজি)

Sunday, 16 September 2018

নভস্যের অনুবাদ কবিতাঃ ক্রোয়েশিয়া থেকে ইভানা বোদ্রোজিচ



ইভানা বোদ্রোজিচের জন্ম ক্রোয়েশিয়ার বোকুবার শহরে, ১৯৮২ সালে। ক্রোয়েশিয়ার যুদ্ধের সময় কুখ্যাত বোকুবার গণহত্যায় ইভানার পিতার মৃত্যু হয়। মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে পালিয়ে বেঁচে ইভানা আশ্রয় নেন শরণার্থী শিবিরে। সেই দগদগে স্মৃতির অন্ধকার ইভানার কলমকে আলোকিত করে জন্ম দিয়ে চলেছে কবিতা, গল্প, উপন্যাসের। ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে ইভানার গল্প, কবিতা, উপন্যাস।



মনে করিয়ে দিও আমায়



যা আমি করতে পারি

তা হল রাতের বাতাস সম্পর্কে লেখা



যখন আমি জ্যাকেট খুলে ফেলি হলঘরে

আমার কাঁধ থেকে, পকেট থেকে

তা গড়িয়ে পড়ে

ক্রিসমাস-ইভের সুগন্ধের মতো

আমার চুলে-মুখে-দৃষ্টিতে আটকে যায়



এবং আমি চাপা পড়ি তোমার ছায়ায়

তোমার গালে আমার গাল

যাতে তুমি শীতের তীব্রতা টের পাও

যাতে তুমি হেসে ওঠো এবং নীচু হও

যেন কিছুই পছন্দ নয়



যা আমি করতে পারি

তা হল একটি স্নো-বল সম্পর্কে লিখে ফেলা



কিম্বা তা শুরু হওয়ার আগেই

ভোরের আলো ফোটার সময়

যখন এটি পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং আমি চিন্তা করি

কিভাবে তোমার কাছে এনে দেব

একটুও না ভেঙে

তোমাকে এর কাছে, অথবা একে তোমার কাছে





এরপর আমার যা করণীয়, তা হল

গ্রীষ্মের দানিয়ুব নদী নিয়ে লিখে ফেলা

এবং সেই সময়, যখন আমি ভেবেছিলাম, সবকিছু সম্ভব



কারণ আমি তখন সপ্তমবর্ষীয়া

এবং আমার নীল দুগ্ধপাত্রে

তখন লাফিয়ে উঠেছে মাছ

ভরভরন্ত আমি গড়িয়ে যাচ্ছি বাড়ির দিকে

নিংড়ে ফেলা পানীয়ের ভিতর



এসবই মনে রাখার মতো



(ইংরেজি অনুবাদের মধ্যস্থতায় অনুবাদ করেছেন উষ্ণিকের সম্পাদক)



(ছবিঃ গুগল)

নভস্যের কবিতা ১৩


Image result for convective clouds(


প্রলাপ#১২
             -সোনালী মিত্র 

আজকাল সুখ নিয়ে কিছু লিখতে ভালো লাগে না,প্রেম নিয়েও না।যথার্থ সুস্থতা নিয়ে লেখা চিঠিগুলো একলাই হেঁটে গ্যাছে দাবানলে।ভাদুরে উত্তাপ মাথায় নিয়ে লালা ও ঘামে যেসব প্রেমিকেরা এসেছিলেন,আঁশটে গন্ধ নাকে টেনে তারাও ফিরে গ্যাছেন যে যার ঘরে।

#
প্রতিদিনের সুস্থতা পেতে চেয়ে যাবতীয় পর্দা টেনে রাখে চোখ।দীর্ঘ বুদবুদ্ সাবানজলে ডুবে থাকে এ পোড়া শরীর।
ডাক্তার বলে গ্যাছেন,বারংবার এই আত্মহত্যা প্রবণতা ধীরে ধীরে উন্মাদের দিকে গড়ায়।তার'চে গান শুনুন,গীতা অথবা আত্মাশুদ্ধিকরণ টাইপ বই টই কিছু পড়ুন,ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ে বা সমুদ্রে।তবে জঙ্গল আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়।
প্রতারণামূলক গল্পগুলো আপাতত নির্বাসনে পাঠিয়ে দিন।
#
লাল-নীল ক্যাপসুলে ঢেকে যায় বৃষ্টিদিন।ওষুধের ধারাভাষ্যে আত্মহত্যা অথবা উন্মাদ কোন একটা সুর নিশ্চয়ই বাজাবে আমায়।ধন্বন্তরি কবিতাগুলোও একদিন সাইকো হয়ে উঠবে।সঞ্জীবনী বর্ণমালার ভিতরে জেগে উঠবে অ্যাসাইলাম।

শুনে রাখুন প্রিয় পাঠক,সুতীব্র প্রলয়ের আগেএ ভুলভাল লেখনীর অস্থি বিসর্জনটুকু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ।
(ছবিঃ উটা বিশ্ববিদ্যালয়)