Saturday, 3 June 2017

প্রাবৃষার কবিতা ২

Related image




প্রাপ্তবয়স্কতার পূর্বদিক
-রঙ্গন রায়

বান্ধবী তো ছিলনা কখনো , সবাই জোনাকির মত
কুলকুচির শব্দেরা ঘরে ফিরে আসে শুধু ,
প্রতিটি ভোরবেলা নিখুঁত সাজানোর জন্য
শকুন্তলার পায়ে পায়ে হরিণ ছানা
আমাদের দেওয়ালে ঘুরে বেড়ায় , নির্ভয়ে
ইদানীং দুষ্মন্তের ওপর আমার ভয়ানক রাগ হয়,
প্রকৃত প্রস্তাবে সে হারিয়ে গেছে
বাবার লুঙ্গির সেই দুর্দান্ত কোলের মত

এখনো ঘুমিয়ে পড়ি আমি আলগোছে
                        দেওয়ালের এপার হতে

চুল কাটাতে প্রতিটি শিশুই যেরকম ভয় পায়
যতটুকু চিৎকার ,
আমার চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা , রাজদূতের শব্দ
কোন হর্ণ লাগতোনা বলে অল্প অল্প করে
সেলুনের কাছে সরে এসেছি
নন্টে - ফন্টের সাথে তখন কি মধুর বন্ধুত্ব;
কি এক অসম্ভব টান থেকে আফটার শেভ লোশনের গন্ধ

ছড়িয়ে পড়ছে গালে , প্রতিদিন একটু একটু -




(ছবি: রবার্তো ক্রিপা )

প্রাবৃষার কবিতা ১

Image result for hilbert space

যৌথ কবিতা 
-পারমিতা চক্রবর্তী

"কাল আসবো " বলে পালিয়ে এসেছো বৃত্তের আড্ডা থেকে 
অনিকেত এভাবে গল্প সাজালে চরিত্রের মুখবন্ধ পরিবর্তিত হয় 
যার প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করে যৌথ কবিতা

আজকাল অনেক পরিবর্তন দেখি 
যে চোখে বৈধব্য দেখতাম 
তাতে অসূচী চারু'র ঠোঁটে'র স্পর্শ দেখি 

তারপর 

গল্প বিদেশী হয়
ভোরে'র চুমু শীত চোখে লাগে 
আমি তো শীত হতে চেয়ে শিবালিক
হয়ে গেলাম 
অন্তর্ধান হল গতিবেগ 

সত্যি 

তোমার শীতকাতু'রে মাংসে ফায়ারপ্লেস বড় কম 
সময়ে'র পরিধি সংক্ষিপ্ত হলে
জন্মের চিতায় বাল্যচাঁদের 
সতীদাহ হয় 

এ মৃতপৃথিবী মীরজাফর দেখেছে 
যৌথ কবি দেখে ...




Saturday, 20 June 2015

প্রাবৃষার কবিতা ১


রুদ্রবীণা

      -লিপিকা ঘোষ

ভালোবাসার কাছ থেকে একটা বাঁশি চেয়েছিলাম , একটা সুর চেয়েছিলাম , বাঁশিটা বাজাতে বাজাতে এগোব । সুরটা সামনে এগিয়ে তুমুল জলরশি ঠেলে দুপাশে সরিয়ে পথ করে দেবে । আমি এগোব । এই এগোনোর আগেই ভালোবাসা সুর বদল করল , সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রও । হাতে তুলে দিল রুদ্রবীণা । এ কি আমি বাজাতে পারি ? 

Saturday, 6 December 2014

কালপুরুষের মাসের কবিতা ৭


মায়ানাভি
     -তন্ময় ধর

কবিরাজি টকফলেও সেই মানে মানে
এঘরে জলের নখ
   উদ্ভিদের লাবণ্য এলার্ম

(হাসি)
ফর্সা বাড়িয়েছো তুমি;
রক্তের দশমিক বাড়ছে না

(...প্রস্থান)
একটু ব্যথা
বায়োকেমিস্ট্রির আয়না থেকে
হালকা হানিকম্বে সন্ধের মৃগশিরা ছলকে গেল

(পুনরাবির্ভাব)
কাঁচের ঊর্ধ্বসীমায় এই অভিনয়ফেরৎ পারফিউম
ব্লু


কালপুরুষের মাসের কবিতা ৬


সম্পাদ্য
   -কল্যাণী লাহিড়ী

বেছে বেছে সম্পাদ্য ধরি, যাতে অতিরিক্ত তেল থাকবে ভক্তিরসের, আর
মুর্গমসল্লায় পুর দিয়ে ভাতকলমে, নামজন্য কবিতা ছাপা হবে
নানাদূরে, দুচারটে শাবাশ লোটা চিঠির মহরৎ। খুব ধুম পরে
যাবে আগুন পোহাবার। লগ্নিপুঁজি থাকবে হাতের। শতকরা হারে
কতটা ছাড়যোগ্য সম্পাদ্য ধরবে? হাতের জেসমিনরা বাহবার
আকাশ ধরবে, ওদিকে ফাগুয়া নৌকা ভাসাবে জলে। শরণের
বল কাজ করবে কণার মাধ্যমে।

কালপুরুষের মাসের কবিতা ৫


জাহাঙ্গিরকে লেখা কবিতা-২৮
              -অস্তনির্জন

হাওয়ায় কিছু পাতা বেড়েছে- কিছুটা কুয়াশা
  এই এক পাতলা তহবন্দ পরা ভাব
              শখসন্ধের বিকেলে
 আনাজপাতির থেকে বেরিয়ে আসা আকর
এই এক কুয়োতলা লোকাস ও তারওপর কেউ
  
            নব ঘোরালো

জাহাঙ্গির তুমি তো জান নব ঘোরালে আঙুল কিছুটা শূন্যে ঘুরে যায়
                           ঘাম পড়ে
তোমার শরীরকে সে আলপাট করে ফসল ফলায়
আপখোরাকি দেয়, খুলানাবান ফর্সা করে দেয়

তাই রুমাল আজও লবণাম্বু উদ্ভিদ
তাই মুখ মুছিয়ে দেওয়ার নুনটুকু এই দুপুরে এপ্রিলে পানপাতায়

নিবিড় গ্রীলের ভেতর সহজ সত্যনারায়ণ- ত্রিশটি পান শশাকুচি
মোদক ও তুলসী, এতৎসহ পঞ্চগব্য পঞ্চঘৃত পঞ্চোদক পঞ্চামৃত
বারকোষ ঘুরে উপচে পড়া পিঁপড়েগুলি- আরো এই কিছু ফল

কালপুরুষের মাসের কবিতা ৪


বেকার ও বেকারার
          -ঋপণ আর্য

বনের আঁচড়ে যাই প্রতিদিন।
পাথরের উপর বসে
কালা হতে পারি না বলেই হয়তো
        পাথর হতে পারি না,
      কালো হই খানিক।

উঁকির ইচ্ছের অনতিক্রম্য
শ্যাওলার কাছাকাছি এলেই
দূরত্বের গন্ধ শুঁকে চলতে থাকা
    ছড়িয়ে যায়।
ডিও, ধুপকাঠি, বেলফুল এঁকেবেকে
সাদাকালো রিড।
হারমোনিয়ামে তোমার হাত আছে।
আমার কোনো হাত নেই চাকরি পাইয়ে
দেবার!

পাগুলোয় সেই থেকে দাঁড়িয়ে আছে
      অতিথি নিবাস।