Monday, 20 April 2020

বৈশাখের কবিতা ৩

A Family Living Road side BENODE BEHARI MUKHERJEE Oil Color 20th ...

বরফ বৃক্ষের উচ্চারণ 
                           -শিবু মণ্ডল 

এই তো মৃত্যুর বেতবন থেকে ঘুরে এলাম

সেখানে উদ্দেশ্য ছিল, রাস্তা ছিল না, আবার ছিলও

সেখানে শুয়ে শুয়ে যাওয়া যায় বসে বসেও

সেখানে হাতে করে কেউ বোতাম বুনে দেয় জামার গায়ে



তারপর গর্ভবতী নারীর ফুলে ওঠা নাভির দিকে তাকিয়ে বসে থাকি

(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)

বৈশাখের কবিতা ২

Benode Behari Mukherjee: Light and Shadows of an Artist's Life

 মুক্তক
      -মৌমিতা পাল

জলের ওপারে যাবার জন্য একখানা নৌকা
পাঠিয়ো তো সাধনসঙ্গিনী;
একটু একটু করে
   বদলে যাচ্ছে সম্পর্ক।
 কথামতো ডিপি না বদলালে অভিমান হয় তোমার,
ভোর পাঁচটায়
   নতুন বাঁধা গান শুনিয়ে
ঘুমোতে যাই আমি।
পাখিরা দেদার ওড়ে
মায়াবী শ্রম শেষে।
সাধনসঙ্গিনী তোমার দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গী হয় তখন
দুচারখান মানুষপ্রধান সম্পর্ক।
তোমাকে মেসেজে লিখি
-'এবার ঘুমা'।
ভুলের আমদানীতে
      ছলছলাচ্ছে বুক,
আতঙ্কআকাশকে
   তাজ্জব বানিয়ে
সাধনসঙ্গিনী বলে ওঠো
-"তোর তো অনেকের প্রতি প্রেম
আমাকে নিয়ে
খামোখা ভাবতে হবে না"।
টুপিটুপিয়ে গড়িয়ে পড়ে বুকে
 এ কেমন নিক্কন!
হেসে টাইপ করি -
"এর থেকেই বোঝা যায়
কতটা ভালোবাসিস!"

আতঙ্কআকাশকে
তাজ্জব বানিয়ে
 অভিমান অভিমান খেলছিলাম শব্দের মহল্লায়।
মানুষের খাঁচাগুলোতে
         শব্দাবলী নয় , স্বকালপাঠক নয়
আমাকে একমাত্র ত্রাণ করতে পারে তোমার মস্করা

(ছবিঃ বিনোদবিহারী মুখার্জি)



বৈশাখের কবিতা ১

Exhibition in London to focus on works by Indian modernist Benode ...

হোম কোয়ারেন্টাইন
                   -পাপড়ি গুহ নিয়োগী

আর কিছুদিন অপেক্ষা কর
দীর্ঘ হলুদ ভোর হবে
ধীরে ধীরে ধুয়ে যাবে কালো রং

আমাদের একান্নবর্তী স্কুল খুলবে
পাড়ার চায়ের দোকান
আবার দায়িত্ব বাড়বে জুতোর

আমরা আলোর গল্প করবো
জলরঙা হবে আমাদের জন্মদিন
পেরেক তুলে নেবো মানচিত্রের পা থেকে

দেখিস
রাস্তাটা হঠাৎ বাঁক নেবে
আনন্দ বাজারের দিকে

বিশ্বাস রাখ,দূরত্ব কমে যাবে
ঘরে ফিরবে পরিযায়ী শ্রমিকরা
এসব অপেক্ষা আর থাকবে না

শিশুরা দুধ পাবে
আমরা সবাই থালাভর্তি গরম ভাত
প্রতিমুহূর্তে আর মৃত্যু খেতে হবে না

মুখোশহীন মুখ দেখবো আবার
রবিবারের আঁকার স্কুল খুলবে
কারণে অকারণে হাসবো

দমবন্ধ জীবন মুক্ত হবে
কৃষকের অবুঝ ফসল
পড়ে  থাকবে না মাঠে

আমরা বুনোফুল । নদী। অরণ্য
সমুদ্র। পাহাড়ের কাছে  যাবো
আবার  ঠোঁট  পাবে আশ্রয়

বিপদ আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে
ধর্মস্থান  আসলে
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের  পিছনেই  থাকে

( ছবিঃ বিনোদবিহারী মূখার্জি) 

Tuesday, 25 February 2020

কুসুমের মাসের কবিতা ১২


Joseph Stella: Battle of Lights, Coney Island, Mardi Gras (1913-14)

মুলতুবি দেওয়াল বরাবর
                    -সম্পিতা সাহা


হাহাকারের মতো প্রেতঘুম।
জেগে উঠে দেখি গর্ভদণ্ডছায়া খুলে গেছে।
তুমি ঠোঁট খুলে ঘুমাও।
গিলে নাও, কস্তুরিমেঘ নিজের বুকে।
জানালা বেয়ে গতরাতের বৃষ্টি ঝরে পড়ছে... এসো এখন।
এসে দেখো, কত যত্নে বাড়িয়ে তুলছি দাগের কাছে সাম্যতা...

আরোপ থেকে সরে গিয়ে,
সাদা প্লেটে সাজিয়ে আনি প্রাতঃরাশ।
তুমুল যন্ত্রণায় গিলে নিতে পারিনা
মনোহারি পাখির মাংস।

ডুবন্তছায়া...

ঘেমে ওঠে প্ররোচনা।
সমস্ত দরজার মুখে একটা করে
ঘন্টা ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে কেউ।
আসতে যেতে আওয়াজ হয়।
ভাবি ছুটি হয়ে গেছে।
প্রক্ষালনে জাদুপায়রার হাতছানি...
সম্ভবত এখনই মোহ কাটিয়ে উঠবে শরীর।

অতঃপর...

তোমার বিশ্বাসের কাছে এসে দাঁড়াই।
স্বপ্নবৎডিঙা আর আঁধার থেকে
কুড়িয়ে পাওয়া ঘ্রাণ,
তুমি গিঁট মেরে রাখো।
আমার প্রশ্বাস কমে আসে।

তৃণখণ্ডদ্যুতি...

তোমার মায়া হয় না।

হাতে রত্ন পরেও টের পাও না,
আঙুল অসার হয়ে যাচ্ছে দোষারোপের ভ্রমে।

(ছবিঃ যোসেফ স্টেলা )

কুসুমের মাসের কবিতা ১১

Gino Severini: Dancer at Pigalle (1912)

একুশকে বলা
             -পিয়াল রায়

আমার লেখনী ভেসে যাচ্ছে রক্তবমনে
দারিদ্রসীমার বিপজ্জনক নিচে দিয়ে বইছে
আমার অক্ষর
তাদের না আছে ভুত না ভবিষ্যৎ
কাগজ জুড়ে কেবলই হাহাকার
সারাদিনে লক্ষকোটিবার হারানোর গল্প শুধু

এই বাড়িঘর, এই পথ, ওই দরজা ঘুমন্ত দুপুরের
কমলা প্রকৃতির অতীব লাস্যমায়ায়
ত্রস্ত বিজন আমার মগজ-জঠর
জানি না কতদিন আর এইভাবে উপোসী কাটাবে
কতদিন আর ঘাসের ডগায় আঙুল পাকাতে পাকাতে
কর্কশ জল ঘুলিয়ে উঠে আসবে শোক
কানাকড়ি সম্বলহীন ডুবোমানুষের মতো

অভিমানী কাগজে তাই পাক খায় নীলসাদা ধোঁয়া
মস্ত শূন্যতায় নড়েচড়ে
শীর্ণ আয়ুস্রাবী আমার শোণিত তলিয়ে যায়
তলিয়ে যায় বিশদ ক্লান্তির দেশে

এতসব পড়ে পাওয়া নিয়ে আমি
কবিতা পারি না আর
ভণ্ডামি সাধি সাধকের বেশে

(ছবিঃ গিনো সেভেরিনি )

কুসুমের মাসের কবিতা ১০

Umberto Boccioni: The City Rises (1910)

বিয়োগ
        -অভিশ্রুতি রায় ভট্টাচার্য 


একটু একটু করে

ভালো দাও

বাসা দিওনা

বাসা নিজের কাছে রাখো

ওরা বাসা চায় না

শুধু ভালো চায়

ওরা তোমাকে চায়না

শুধু ভালো চায়

ওদের ভালো টুকুই দাও

হাসি দাও

ফল দাও

পরে যাওয়া ফলে দাগ হলে

 গাছও জানতে পারেনা কোনোদিন

(ছবিঃ উমবের্তো বোক্কিওনি) 

কুসুমের মাসের কবিতা ৯



অহন আমরার গায়ে হুদাই 
                              -নীলাব্জ চক্রবর্তী



অহন আমরার গায়ে
হুদাই এই ঢিলাঢালা শব্দগুলি কেম্নে ফিট অইব
ভাষা ফালাইতে ফালাইতে
হেরা গাছ হইয়া উঠতেসে কেম্নে
শাটার অবধি লিখতেসে
যারা মাংসের ভিত্রে গান রাইখা
ভুইল্যা গ্যাসে কাগজের এক একখান দিন
আলো কারখানার পাশেই
বসায়ে রাখসে বুজায়ে ফালান পুকুর
হাওয়ার ভিত্রে
তোমাগো ভাব উড়তেসে দেইখ্যা
ফিজিক্স পড়তে বইসা
পিঠ চুলকানের মস্ত একখান লাঠি দিয়া
ভ্যানোপ্রসাদ আমারে গুলি করনের ভাব করলে
পইড়া যাওনের ভাব করতে করতে
এহানে বইসা বইসা
এই কবিতাডাই লেইখ্যা যাইতে থাকুম
যতক্ষণ না
আমরার পাও আমরার বাপের পাওয়ের লাকান ফুইল্যা ওঠতাসে...

(ছবিঃ গিনো সেভেরিনি )