Thursday, 25 April 2019

চৈত্রের কবিতা ৪

blind artist painting

শুভ লাল
         -ঈশানী বসাক

ফেরার পথে দেখি একটা মৃতদেহ। খাটে শোয়ানো। দুটো পা লাল টুকটুকে আলতা রঙে রঙিন। মুখ ঢাকা। দাঁড়িয়ে রয়েছি যদি মুখ থেকে ঢাকা সরে। স্ট্রেচার থেকে নামাবার সময় সরলো চাদর। বয়স হবে আমাদের মতো কিংবা সামান্য বছর তিনেক বড়। এক পাশে একটি ছেলে বসে আছে। হাতে কাগজ। মাথা নীচু করে সে ছাপ নিচ্ছে পায়ের। ধরে রাখার বড়ো চেষ্টা মানুষের জীবনকে। তবু সাড়া দিতে পারে না শরীর। ফুল , তেল, ধূপ জুড়ে মৃতেরা ঈশ্বর হয়ে যায়। মেয়েটার ঠোঁটের কাছে সামান্য হাসি। এমন ছোঁয়াচে রোগের কাছে ফিরতে চাই আমি। মনে হয় গিয়ে পাশে বসি। তবুও তো চলে যেতে পারবে না কেউ। বলতে তো পারবে না যে আমার যাবার কারণ ছিল কিছু। আলতার ছাপ কাগজে। বহুবছর বাদে সেই পায়ের ছাপ দেখে অক্ষমতার কাছে গিয়ে চোখ বুজবো আমরা। চিরকাল আলতা দেখলে চোখ ফেরাই। আলতা বড়ো মনে করায় ...





(ছবিঃ অন্ধ শিল্পী ম্যারী সেমৌর)

চৈত্রের কবিতা ৫

Image result for sargy mann painting



এমন বিচ্ছেদ
                      -তমালিকা চক্রবর্তী

বিচ্ছেদ চেয়েছিলে তুমি। দিয়েছিলাম। সেদিনের পর থেকে আমাদের আর কোনোদিন কথা হয়নি। দেখা হয়নি। হয়ত কোনোদিন দেখা হবেও না। তবুও আজ জানতে ইচ্ছা করছে, বলতে ইচ্ছা করছে কানে কানে, যে বিচ্ছেদ চেয়েছিলে, আদৌ কি তুমি তা পেয়েছ? এই ক বছরে কি একবারও মনে মনে আমার কথা ভাবনি।

মিথ্যে বলব না। ভেবেছি আমি আরেকবার। যতবার নৌকায় উঠি। ততবার মনে হয় পাশে বসে আছি তুমি। এবার বলবে,  দেখো দেখো সূর্যের আলো জলে পরে কেমন মায়াবী হয়ে উঠেছে।

যতবার প্রেমিক-প্রেমিকাদের হাত ধরে যেতে দেখি। মনে হয়  পাশ থেকে বলবে তুমি, এই ন্যাকা ন্যাকা প্রেম পোষায় না। ইনফ্যাক্ট প্রেমটাই ঠিক পোশায় না। নেহাৎ তোকে ভালোবেসে ফেলেছি।

বিশ্বাস কর আমার একবারও জানতে ইচ্ছা করে না, তুমি কোথায় আছো, কেমন আছো। সত্যি বলছি, তুমি  বিয়ে করেছ কি না সেটা জানতেও ইচ্ছা করে না আমার।

শুধু জানতে ইচ্ছা করে, এই ক'বছরে একবার আমার কথা ভেবেছ?

(ছবিঃ অন্ধ শিল্পী সার্গী মান) 

চৈত্রের কবিতা ৬

Image result for sergej popolsin painting


শেষ কথা
            -পিয়াল রায়

কথা একটাই
'শেষ কথা'
ধুলোর আঁধারে এই একটিমাত্র 'শেষ কথা'

গায়ে দামি শাল, জমিজিরেত, গোয়াল ভরে ওঠে
গির্জার ঘন্টাধ্বনি, আজানের সুর আসে ভেসে

মাটির বাড়ি
দোতলার জানলা খোলা
বাইরে ও ভিতরে দেদার কথা
তুলোর মতো হাওয়ার গায়ে লুটোপুটি
একটা দুটো কামরা কেবল ফাঁকা পড়ে থাকে

কথার বাড়ি ভরে ওঠে
বড় হয়, আরো বড়
শেষ নেই তার

ধীরেধীরে দেখা যায় কিছু কিছু কথা
আলোয় চলে গেছে
বেশিরভাগ কথা থেকে গেছে কালো কালো ছায়ার মতোন
ছড়িয়ে গেছে বাতাসের ভিতর, আগুনের ভিতর, মরণের ভিতর

বাদুর এসে বসে, চামচিকে ওড়ে,মাথার ভিতর একটা দুটো ইঁদুর
কোনো শব্দ নেই

সমস্ত ছেড়ে যাওয়ার আগে জীবন কথা বলে ওঠে
'শেষ কথা'
যার আয়োজনেই গোঁজামিল চলে সমস্ত জীবন


(ছবিঃ অন্ধ শিল্পী সের্গেই পোপোলসিন)

চৈত্রের কবিতা ৭

Image result for binod behari mukherjee painting

মৃতদেহ ও রোদচশমা
                                -তন্ময় ধর 

অনুভূতিহীন একটা রঙ
   চমকে ওঠে
     দৃশ্য হতে থাকা একটি হাত ও অক্ষরেখায়

কাটা-ফলের ভিতর ঢুকে পড়া তোমার সুখ ও অন্ধকার

কোথায়, কিভাবে
হারিয়ে ফেলেছো রক্ত, ছায়াপথ, দুধ ও নির্জনতা?


একটি তাপপ্রবাহ চোখ সরিয়ে নিচ্ছে আমাদের অভিনয় থেকে

ভুল আলো-শব্দ ছিঁড়ে
আমাদের রঙিন অংশ
তুলে নিচ্ছে একটি আকাশ ও পাখি




(ছবিঃ আংশিক অন্ধ শিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়)

চৈত্রের কবিতা ৮

Image result for hal lasko painting



অতিবৃষ্টি
               -সুকল্প দত্ত

কিছু খেত পোওয়াই রাতে
নির্ঝঞ্ঝাটে কত দাগ
গুঁড়ো গুঁড়ো মেঘে
মিয়ানো সিরাপ
আশরীর নখবালিশ
ঝরোখার মন
সে তোমার বৌবহর
কিলমিশ এই হিটারে
ধানডিহি বিষাদ মরাল।





(ছবিঃ অন্ধ শিল্পী হ্যাল লাস্কো)

চৈত্রের কবিতা ৯

Related image


অভিমানও একটি মৃতশহর
                             -শিবু মণ্ডল 

মৃতদের কোনো নাম ধরে ডাকতে নেই
তারা পূর্ণিমার ভোরের চাঁদের মতো
ভীষণ একলা; অপেক্ষায় থাকে
কখন ছাদে এসে তাঁকে দেখবে তুমি
ভিড় থেকে সরে এসে কখন ডাকবে তাঁকে।

যে নদী শিয়রে রেখে শুয়েছিলে, তাকে
ডিঙিয়ে চলেও যাবে ছাদের কার্নিস ধরে

তুমি মৃত শহরের কাছে যাবে,
আপন করতে চাইবে।তবু ভয়ে আটকে যাবে
পা; পাছে তুমিও সেই শহরের মতো হয়ে যাও!




(ছবিঃ অন্ধ শিল্পী আর্থার এলিস)

Thursday, 28 March 2019

কুসুমের মাসের অনুবাদ কবিতাঃ বটসোয়ানা থেকে ৎজবঙ্গোবা ডেমা

Image result for tj dema

ওভারিয়া

১।
যখন মধ্যরাত আসে
আমি দেখি, অনেক দূরে রয়েছি অনেকক্ষণ
আমার উপুড় হওয়া অন্তস্তল ভেসে আছে
ছাতার মত
বিশ্বাস করতে চেয়ে শশব্যস্ত
স্বপ্নে
সেই জাদুর ভেতর নিজেকে খুঁজে পেতে
ইঁদুরে কামড়ানো শশার মধ্যে

এবং সময়সাপেক্ষ পুরুষেরা

এবং তাদের হাতে অনেক অস্বচ্ছ চামড়া

২।

নারীরা শেখে,
কোনো একটা সময় তা নিছকই রক্ত
মৃত্যু নয়
তারা লুকোতে শেখে জরায়ু এবং স্তন
কোনটা হারাতে হবে, সেটা বেছে নেওয়া
সুস্বাদু কেক দিয়ে সাজিয়ে রাখা টেবিল
তারা শেখে, ছুরি ধরার কৌশল
ব্লেডের সামনে বন্ধকী হাড়-পাঁজরা

আর একটা শূন্যতার সামনে কাপ খালি করে দেওয়া


(আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে বটসোয়ানার গ্যাবোরোনে জনপদে ১৯৮১ সালের ১৪ অগস্ট ৎজবঙ্গোবা ডেমার জন্ম। তাঁর নিজস্ব ভাষার রূপ-রহস্য-আলো-অন্ধকারের মধ্য দিয়েই গনগনে আফ্রিকীয় উত্তাপ ছড়িয়েছেন ডেমা। একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর কবিতা)


(অনুবাদ- সম্পাদক, উষ্ণিক)

(ছবিঃ Botswana Youth Magazine)