Tuesday, 16 June 2020

প্রাবৃষার কবিতা ৭

Observing Gerhard Richter's Abstract Painting | Ideelart

ভাবমুদ্রা
        -নভোনীল চট্টোপাধ্যায়


শস্যদানার ওই অনন্ত আলোটুকুই আমার।

তাই, মুহূর্তেই আমি হয়ে উঠতে পারি তেজস্ক্রিয়।


ধ্যানের যে ইতিকথা

আমাকে এইসব  জানিয়েছে

তার সকাম থেকেই

জন্ম নিয়েছে প্রবৃত্তি।


স্বপ্ন উপার্জনের রেখা,

আমার হাতে এখনও স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু মুখরতা যখন মহার্ঘ লাগে,

তখন শূণ্যে ফেটে ফেটে যেতে দেখেছি

মেঘের নাভি


ধারালো দাঁতের জন্য

ইঁদুরের গর্তে দুধদাঁত ফেলে আসার অনেক পরে,

যখন জেনেছি –

                আমাদের ক্ষুধা আমাদের সমাধি,

তখন অবশিষ্ট অন্ন আর লবণ ব্যবহার করেই

ভয় দেখিয়েছি মৃত্যুকে।


প্রতিটি জন্মদিনে

অপেক্ষা করেছি

কখন পায়েসের বাটি হাতে

সামনে এসে দাঁড়াবে

                             অন্নপূর্ণার কঙ্কাল।

(ছবিঃ গেরহার্ড রিখটার) 

প্রাবৃষার কবিতা ৬

Abstract Painting "Trigger Finger" 20x20" — Katie Jobling

ভালো আছি
            -পাপড়ি গুহ নিয়োগী



টানা দু'ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই ভয় হয়

সেখানে ঘূর্ণিঝড়। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস


মুহূর্তেই ঘর উঠোন হয়ে যায়

শিকড় উপড়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গাছ

ক্ষেতে লবণ জল ঢুকে পড়ে

গরু-ছাগল নৌকা পানের বরোজ ধান !


ঝিঙের মাচায় ফুল এসে ছিলো

মেয়েটার সামনের মাসে বিয়ে


কুপিটা দপদপ করে ,তোরা ঘুমিয়ে পড়

সময়, নাড়িভুঁড়ি হাতে তলিয়ে যাচ্ছে

যেন বিদায় নিচ্ছে আমাদের দেশ


মাথা উঁচু করে পলিথিন হাতে দাঁড়িয়ে

মা বলে ভালো আছি আমরা



সমুদ্রের ভেতর সভ্যতার জঞ্জাল

মরুভূমি হয়ে ওঠে


শরীরে গেঁড়ি কেঁচো লাল পিঁপড়ে

ব্যাঙ সাপ শামুকের দল


চিবুক থেকে খসে রোদ

দীর্ঘশ্বাস আঁচলে বেঁধে তবুও ভালো আছি


শুধু ছেলেটা যে হেঁটে আসছে তার কি হবে

(ছবিঃ কেটি জবলিং)

প্রাবৃষার কবিতা ৫


Acrylic Abstract Painting | Buy paintings Online
বনবিড়াল ও বিষাদ সুন্দরীরা
                                     -শীলা বিশ্বাস


ক্রিস্টোফার কলম্বাসের স্ট্যাচু চুঁইয়ে যে রোদ ম্যাগডালেডা নদীতে পড়ছে ঘোড়ামুখো ছোকরার বাঁধা কোনো বিষাদ গণিকার কাছে তার কোনো মূল্য নেই। দূর থেকে অপেরা সঙ্গীত ভেসে আসলেও মনে ও শরীরে কোনো ঝড় তোলে না। পানশালাতে ভিড় করে থাকে আসক্ত অপেক্ষারা। তুরীয় আনন্দের খোঁজে ঢল নেমেছে রাস্তায়। পথচারী খুশী হয়ে তাসা পার্টিকে কয়েন ছুঁড়ে দিচ্ছে। একটি ছোট্ট আওয়াজ মিশে গেল ভিড়ে।  গলায় মুক্তোর টাইপিন পরা বনবিড়ালগুলি ইতিউতি দৌড়াচ্ছে। হাতচিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হল একশো বিষাদ গনিকাকে। সেন্সারের কাঁচি নিয়ে হারিয়ে গেল বনবিড়াল ও বিষাদ সুন্দরীরা। স্মৃতিতে জড়িয়ে নিচ্ছি মার্কেজের কলম।

(ছবিঃতৃপ্তি দে) 

প্রাবৃষার কবিতা ৪


Abstract Cityscape art painting night rainy New York by Debra Hud by Debra Hurd

ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে 
                         -বল্লরী সেন 


এইভাবে বিবাদের মালা আমি তোমায় পরাই
জনান্তিকে ভোর হয়,ছইয়ের ভেতর দিকে সিঁড়িরা ঘুমোয়
তুমি এখানে ওখানে কষ্টবীজ, কুশের শাবক পুঁতে রাখো
আমারি শরীর রস নিষ্ক্রান্ত অসির ফলায়, দা দিয়ে টুকরো করে কাটো

কমিউনিটি হলের পেছনে কখনো হারিয়ে গেছে এক পা জুতো
স্নানের আক্রোশে তাকে আমি একান্ত ভাবিয়ে তুলি
আমার সামনে তার উলঙ্গ অঙ্গীকার বিশ বছরের এপার ওপারে।

নীল প্লাস্টিকের স্যানিটারি ন্যাপকিনব্রত শতাব্দীর সংক্রান্তিপূরণ
শার্টের গারদ থেকে যতক্ষণ খুলে নিই পরাগের রাজদণ্ড অজ্ঞ হাতে
আমাদের দেহভেদ হয় । শাসকের অজস্র তালায় শব্দ ফাটে শঙ্খ-লাগা চাবির
কান্নায় ,খেলনা  বালিশে পুরুষের রোমবৃত্ত নাগকেশরের মতো ফেরে

ঘ্রাণের টঙ্কারে অববাহিকায় একদিন ভোররাত্রে তার শিয়রের ভিতে
বিনিময় ধান রেখে আসি

( ছবিঃ ডেবরা হুর্ড ) 

প্রাবৃষার কবিতা ৩

Abstract Rain Painting by Shweta Muddebihal

প্রলাপ
    -সোনালী মিত্র 


আজকাল সুখ নিয়ে কিছু লিখতে ভালো লাগে না,প্রেম নিয়েও না
যথার্থ সুস্থতা নিয়ে লেখা চিঠিগুলো একলাই হেঁটে গ্যাছে দাবানলে।
ভাদুরে উত্তাপ মাথায় নিয়ে লালা ও ঘামে যেসব প্রেমিকেরা
এসেছিলেন , লীলাগন্ধ গন্ধ নাকে টেনে তারাও ফিরে গ্যাছেন যেযার ঘরে।
#
প্রতিদিনের সুস্থতা পেতে চেয়ে যাবতীয় পর্দা টেনে রাখে চোখ,
দীর্ঘ সাবান-জলের বুদবুদে  ডুবে থাকে এ পোড়া শরীর।
ডাক্তার বলে গ্যাছেন,
বারংবার এই আত্মহত্যা প্রবণতা ধীরে ধীরে উন্মাদের দিকে গড়ায়।
তার'চে গান শুনুন,গীতা অথবা আত্মাশুদ্ধিকরণ টাইপ বইটই
কিছু পড়ুন,ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ে বা সমুদ্রে,তবে জঙ্গল
আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়।
প্রতারণামূলক গল্পগুলো আপাতত নির্বাসনে পাঠিয়ে দিন।
#
লাল-নীল ক্যাপসুলে ঢেকে যায় বৃষ্টিদিন
ওষুধের ধারাভাষ্যে আত্মহত্যা অথবা উন্মাদ কোন একটা সুর
নিশ্চয়ই বাজাবে আমায়,
ধন্বন্তরি কবিতাগুলোও একদিন সাইকো হয়ে উঠবে
সঞ্জীবনী বর্ণমালার ভিতরে জেগে উঠবে এসাইলাম
শুনে রাখুন প্রিয় পাঠক, প্রলয়ের আগে
এ ভুলভাল লেখনীর অস্থি বিসর্জনটুকু অন্তত দিন।

( ছবিঃ শ্বেতা মুদ্দেবিহাল )

প্রাবৃষার কবিতা ২

Abstract Rainy Evening Painting by Dan Haraga

কৃষ্ণ
   -অনিমেষ সিংহ


তুমি বৈষ্ণব পদাবলী। সাঁঝের তারায় আঁকি তোমাকে।
বাহুডোর ছড়িয়ে, আবৃত করো তুমি,
আমার গ্রাম্য নদী ও তার, ডিঙিনৌকোগুলোকে।

বাতাসে, বেলেফুল ভাসে, চিকন শরীরে  থমকে দাঁড়ায়,
চর্যাপদ

একতারা নিয়ে, ভাবি, বৈষ্ণবীর দুয়ারে যাব।

যাত্রাগুলো ফুরোয় না। সব্জীর দোকান, রেশান, অফিস, চুম্বন, সবুজ ও লালবাতি
- সবই, এগিয়ে চলে।

সার বেঁধে নৌকো চলেছে, জলের শব্দে ভাঙছে রাত
প্রাচীনতম শ্যাওলার গন্ধে ভরে উঠেছে আমার শরীর

চাঁদ খাচ্ছে আমাকে
রাত খাচ্ছে
নিস্তব্ধতা খাচ্ছে আমাকে

বেহেড মাতালের মতো, রাজপথ চলেছে
পাশে কেউ নেই
তাই একটিও ছবি আঁকিনি
হরপ্পা থেকে এসেছিলো, যে নারী

আজ সেও ত্রিধা বিভক্ত

জল জমি জঙ্গল।

কারো ওপর অধিকার নেই, আমার।
সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্যে একটি ঘোড়া এবং নিজস্ব মহাকাব্য প্রয়োজন

কোনোটাই আমার ছিলো না। বৈষ্ণবী, বুকের ক্ষত, তোমাকেই দেখাতে পারি
চন্দনের প্রলেপ দিও

এতো কালো আমি, কৃষ্ণ হতে পারি

(ছবিঃ ড্যান হারাগা)


প্রাবৃষার কবিতা ১

Rain of ashes Villens death ballad I 2 works by Rico Lebrun on artnet


দিদিমা , তোমাকে 
                 -রঙ্গন রায়


এভাবে প্রতিদিন কষ্ট পেতে ভালোলাগেনা। এভাবে প্রতিবার ফেরার সময় 
তুমি হাত জড়িয়ে ধরো , বলিরেখার কাছে হেরে যাওয়ার আতঙ্ক 
ফুটে ওঠে চোখে। কীভাবে রোজ আমি লম্বা হয়ে গেছি আর তুমি ছোট ... 
চোখের সামনে চোখ এনেও বলো "আমি তোকে একদম দেখতে পাচ্ছিনা" - 
ঐ দূরে কাঞ্চন গাছটার মতই ঝাপসা হয়ে গেছি আমরা 
ঠিক যেন উল্টোভাবে রামকৃষ্ণের কথা মনে পরে -
উঠোনে অধীর হয়ে আমাদের অপেক্ষায় এখনো তোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পাই 
জ্যোৎস্না রাতে হঠাৎ পঞ্জিকা হাতে  তুমি  নেমে  যাও চাঁদের কাছাকাছি 
আমরা সকলে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছি তোমার কাছে ... এভাবে প্রতিদিন আসে , প্রতিদিন চলে যায় 
চা বাগানের সব কোয়ার্টার ফাঁকা হয়ে যায় , নতুন মানুষ কেউ আসেনা 
ভাঙা বাড়ি আর ভাঙা চশমার ভেতর মেয়েদের ব্রতকথার জীর্ণ পাতা পড়ে থাকে।

(ছবিঃ লিকো লেবরান)